সকাল ৪:৩০ টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা গাঁয়ে এক পরিবারের ঘরে অগ্নিকাণ্ডে ৩০ বছর বয়সী এক নারী ও তার এক বছর বয়সী মেয়ে প্রাণ হারায়। দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগুন দ্রুত বাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিকারদের ঘনিষ্ঠভাবে আটকে রাখে।
শিকারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে আতিয়া খাতুন, ৩০ বছর বয়সী গৃহিণী এবং তার কন্যা রাউজা খাতুন, যাঁরা ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। আতিয়া ও রাউজা উভয়ের দেহ দমকল কর্মীরা উদ্ধার করে মৃতদেহ হিসেবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে।
আতিয়ার স্বামী রান্তু মিয়া এবং শাশুড়ি মোনেকা বেগম অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রান্তু মিয়া শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং মোনেকা বেগমের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক, তাই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দমকল স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমানের মতে, আগুনের মূল কারণ হতে পারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, যা রাতের নিদ্রার সময় ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে।
দমকল কর্মীরা জানান, আগুনের শিখা বাড়ির কাঠামোকে দ্রুত ক্ষয় করেছে, ফলে শিকারের পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। দমকলের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আতিয়া ও রাউজা দুজনেই ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে, যা পরিবার ও স্থানীয় সমাজকে শোকাহত করেছে।
গুরুদাসপুর থানা অফিসার মো. শফিকুজ্জামান জানান, পুলিশ দেহ পুনরুদ্ধার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শফিকুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, শাশুড়ি মোনেকা বেগমের চিকিৎসা অবস্থা এখনও সংকটজনক, তাই তাকে বিশেষ যত্নে রাখা হচ্ছে।
আতাউর রহমানের মতে, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের জন্য স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক ত্রুটি যাচাই করা হবে। তদন্তের ফলাফল জানার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শোক প্রকাশের পাশাপাশি, আহত পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিবিরে শোকের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ করছেন।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য জরুরি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগ রোধে বাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং দমকল সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন।



