26 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি, ভারতকে বৈশ্বিক শান্তির হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি, ভারতকে বৈশ্বিক শান্তির হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন

ইসলামাবাদে রবিবার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান আসিফ আলী জারদারি ভারতকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি এই মন্তব্য করেন দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, যেখানে তিনি সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জারদারির বক্তব্যের পেছনে লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করা এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতির পুনর্ব্যক্তি করা।

প্রেসিডেন্ট জারদারি উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা একক রাষ্ট্রের ক্ষমতার বাইরে এবং এটি একটি সমষ্টিগত দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সমবেদনা ও সহায়তার বার্তা পাকিস্তানের জনগণ ও সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শক্তি ও প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বার্তা সন্ত্রাসবাদের বিরোধী বৈশ্বিক সংগ্রামের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনরায় জোর দিয়ে জারদারি বলেন, কোনো একক দেশই সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারে না। তার মতে, যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়, আর্থিক সহায়তা বা অবাধে কাজ করার সুযোগ পায়, তখন সাধারণ নাগরিক ও নিরীহ মানুষকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয়। তিনি এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়াও জারদারি কিছু প্রতিবেশী দেশের ওপর অভিযোগ তোলেন যে, তারা তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ প্রদান করেছে। তিনি দাবি করেন, কিছু দেশ আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং সামরিক সহায়তা প্রদান করে এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে সমর্থন করেছে। এসব সহায়তা, তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, পাকিস্তানের এই অভিযোগের প্রতি কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে ভারতের কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং ভারতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের ওপর জোর দিয়েছেন। ভারত সাধারণত এ ধরনের দাবিকে অস্বীকার করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংলাপে নিজের অবস্থান রক্ষা করে। এই পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জারদারির মন্তব্যের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পুনরায় সূচনা হতে পারে, তবে একই সঙ্গে পারস্পরিক সন্দেহ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি উত্থাপনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সংস্থাগুলোও এই বিবৃতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ কোনো একক দেশের নিরাপত্তা নীতি অন্য দেশের নিরাপত্তা পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জারদারির দাবি অনুসারে, যদি প্রতিবেশী দেশগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করে, তবে তা কেবলমাত্র পাকিস্তানের নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাই বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংলাপে নতুন এক দিক উন্মোচন করেছে। তিনি ভারতকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তার অভিযোগ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রভাগে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments