ইসলামাবাদে রবিবার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান আসিফ আলী জারদারি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সময়ে ভারত আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য সম্ভাব্য বিপদে পরিণত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সংহতির জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মোকাবিলা একক দেশের ক্ষমতার বাইরে; এটি সকল দেশের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর থেকে প্রাপ্ত সমবেদনা ও সহায়তার বার্তা পাকিস্তানের জনগণ ও সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উৎসাহের স্রোত হয়ে কাজ করেছে। এই ধরনের সমর্থন দেখায় যে সন্ত্রাসবাদ ও তার পেছনের সহিংস মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই একটি সার্বজনীন সংগ্রাম।
জারদারি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক রাষ্ট্রই সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারে না। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পারাপার করে নিরাপদ আশ্রয়, আর্থিক সহায়তা বা অবাধে কাজ করার সুযোগ পায়, তখন সাধারণ নাগরিকদের উপর ভয়াবহ পরিণতি ঘটতে থাকে। তিনি এ বিষয়ে অতীতের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, যে সময়ে সীমান্তের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অবৈধ সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল, তখন ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে বড় ধরনের কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে জারদারি কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিয়েছে এবং এমনকি আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তাও প্রদান করেছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব সহায়তা, তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা রয়েছে, যেখানে বহু প্রাণহানি ও আঘাত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলো দ্রুত সহানুভূতি জানিয়ে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছে। জারদারি এই সমর্থনকে পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে দেখেন এবং আশাবাদী যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মূল কাঠামো ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।
ভারতকে বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, জারদারি দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন, পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়িয়ে, আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, সীমানা নিরাপত্তা ও তথ্য শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় সহযোগিতা চাওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জারদারির এই বক্তব্য পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, যা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে। ভবিষ্যতে এই ধরনের রেটোরিক্যাল পরিবর্তন কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পুনর্গঠন ঘটাতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখেন এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে বিশ্ব শান্তির জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই অবস্থান ভবিষ্যতে কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন আলোচনা ও সমঝোতার দরজা খুলে দিতে পারে।



