স্পেনের রেল ড্রাইভার ইউনিয়ন সেমাফ সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ধর্মঘট শুরু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে জানুয়ারি মাসে ঘটিত দুইটি মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা গ্যারান্টির অভাবের অভিযোগ রয়েছে। ধর্মঘটের লক্ষ্য হল রেল নেটওয়ার্কের কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ উন্নত করা।
প্রথম দুর্ঘটনা ১৮ জানুয়ারি অডামুজে ঘটেছে, যেখানে একটি হাই-স্পিড ট্রেন ট্র্যাক থেকে সরে গিয়ে বিপরীত দিকের ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই ধাক্কায় মোট ৪৬ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ট্র্যাকের ফাটল ঘটার আগে গাড়ির চাকার গর্তে ক্ষয় দেখা গিয়েছিল, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুই দিন পর, ২০ জানুয়ারি কাতালোনিয়ার বার্সেলোনা নিকটবর্তী একটি স্থানীয় ট্রেনে আরেকটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। প্রশিক্ষণরত ড্রাইভার নিহত হন এবং অন্তত ৩৭ জন যাত্রী আহত হন। রেলপথের পাশে একটি প্রাচীর ধসে পড়ে ড্রাইভারের কেবকে আঘাত করে, ফলে প্রথম কেবিনের গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশ আহত যাত্রী সেই গাড়িতে ছিলেন।
এই দু’টি দুর্ঘটনা দেশের রেল সিস্টেমের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। রেল চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং স্পেনীয় সরকারকে রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরবর্তী নিরাপত্তা পরিদর্শনে বিভিন্ন রুটে রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি এবং যান্ত্রিক সমস্যার উপস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে, যা সিস্টেমের অবনতি নির্দেশ করে।
সেমাফের দাবি অনুযায়ী, রেল নেটওয়ার্কের অবনতি রোধে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং অবকাঠামোতে তহবিলের প্রবাহ জরুরি। ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধির মতে, “এই দু’টি দুর্ঘটনা রেল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের একটি স্পষ্ট সংকেত।” বিশ্লেষকরাও উল্লেখ করছেন যে, রেল নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্পেনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্পেনীয় সরকার এই পরিস্থিতিতে তৎপরতা দেখাতে বাধ্য। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অধীনে সরকারকে পার্লামেন্টে রেল সিস্টেমের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নোত্তর সেশনের মুখোমুখি হতে হবে, যা এই সপ্তাহের শেষের দিকে নির্ধারিত। সরকার ইতিমধ্যে রেল নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে সেমাফের দাবি অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়।
ইউরোপীয় পরিবহন নীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইতালিতে রেল কর্মী ধর্মঘটের ফলে সেবা ব্যাহত হয়েছে, এবং ইউরোপীয় কমিশন রেল নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে। স্পেনের এই ধর্মঘট ইউরোপীয় রেল নেটওয়ার্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ট্রেন সংযোগে।
আসন্ন সপ্তাহে রেল ইউনিয়ন ও সরকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। যদি সমঝোতা না হয়, ধর্মঘটের ফলে পর্যটন ও বাণিজ্যিক রেল সেবায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। রেল নিরাপত্তা ও কর্মী কল্যাণের বিষয়টি এখন স্পেনীয় সরকার এবং ইউরোপীয় সংস্থার জন্য কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



