চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)—এক দিনের ধর্মঘটের পর আজ সকাল আটটায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছে। জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো জাহাজ থেকে কনটেইনার লোড ও আনলোডের কাজ পুনরায় শুরু করেছে, পাশাপাশি বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তরও চলমান।
ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল এনসিটি টার্মিনালের ইজারা না দেওয়া এবং চার দফা দাবির পূরণ। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রোববার সকাল আটটায় ধর্মঘট শুরু করলেও, সরকারী ঘোষণার পর সংগঠনটি রাতের দিকে বিরতি ঘোষণা করে। বিরতির সময় তিনটি টার্মিনাল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকলেও, আজকের সূচনায় সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।
বন্দর অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস ও টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, “অচলাবস্থা শেষ, কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ধর্মঘটের সময় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, তবে কর্মসূচি পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর দ্রুত শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেনও একই রকম মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ধর্মঘটের ফলে ৬৫টি বড় জাহাজে কাজ স্থগিত ছিল, কিন্তু কর্মসূচি পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জাহাজগুলো থেকে পণ্য লোডিং-আনলোডিং পুনরায় চালু হয়েছে।
ধর্মঘটের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট সোমবার সকাল আটটা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে। তবে গ্রেপ্তার, বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বন্দরের ব্যবসায়িক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিনের বন্ধের ফলে রপ্তানি-আমদানি শিপমেন্টে বিলম্ব, পণ্য সংরক্ষণ খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশেষ করে রপ্তানি কনটেইনারের সময়মতো রওনা না হওয়া গৃহস্থালী ও শিল্পখাতের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করেছে। তবে আজকের পুনরায় চালু হওয়া কার্যক্রমের ফলে এই ক্ষতি সীমিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্দরের টার্মিনালগুলোতে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় শিপিং কোম্পানি ও লজিস্টিক সেবা প্রদানকারীরা দ্রুত শিপমেন্ট পুনরায় চালু করতে পারবে। বিশেষ করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) যেখানে ইজারা না দেওয়ার দাবি ছিল, সেখানে কাজ পুনরায় শুরু হওয়া বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান রপ্তানি-আমদানি হাব, এবং কোনো ধরণের বন্ধই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এক দিনের বন্ধের পরেও, যদি সমাধান না হয় তবে ভবিষ্যতে পুনরায় ধর্মঘটের ঝুঁকি থাকবে, যা বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমাতে পারে।
বন্দরের পরিচালনা সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠন উভয়ই এখনো কিছু মূল সমস্যার সমাধান চাচ্ছে। ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ, কর্মী বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে, পরবর্তী সপ্তাহে নতুন কর্মসূচি ঘোষিত হতে পারে, যা আবার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এক দিনের ধর্মঘটের পর পুনরায় চালু হয়েছে, তবে শ্রমিক সংগঠনের দাবিগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে মেটেনি। বাণিজ্যিক শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের ঝুঁকি কমে এবং দেশের রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।



