দিল্লির বিভিন্ন স্কুলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ই-মেইল ও ফোনের মাধ্যমে বোমা হামলার হুমকি পৌঁছায়। হুমকি অনুযায়ী ১:১১ অপরাহ্নে বিস্ফোরণ ঘটবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের পার্লামেন্টে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়।
হুমকি বার্তা সকাল ৮:৩০ থেকে ৯ টার মধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ই-মেইল ও ফোন কল দুটোই একই সময়ে প্রাপ্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রোটোকল চালু করা হয়।
দিল্লি পুলিশ, অগ্নি নির্বাপক বিভাগ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো হুমকি প্রাপ্ত সব স্কুলে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান চালায়।
তল্লাশির সময় শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি স্কুল থেকে স্থানান্তর করা হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিল করা হয় এবং পিতামাতাদের সতর্কতা জানানো হয়।
তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক উপাদান পাওয়া যায়নি। তদুপরি, হুমকির মূল উৎস চিহ্নিত করার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
ই-মেইল বার্তায় উসকানিমূলক ভাষা ও উগ্রবাদী রেফারেন্স দেখা যায়। বার্তায় দিল্লি “খালিস্তানে” পরিণত হবে এমন দাবি করা হয়েছে এবং “খালিস্তান ন্যাশনাল আর্মি”র উল্লেখ রয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, বার্তায় আফজাল গুরুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিষয়টি আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এই রেফারেন্সগুলোকে নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থা সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
পার্লামেন্টের হুমকি সম্পর্কে জানানো হয় যে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে বিস্ফোরণ ঘটার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা এই তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ হুমকি গ্রহণের পর তৎক্ষণাৎ জরুরি পরিকল্পনা প্রয়োগ করে এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ শুরু করে। তারা নিশ্চিত করেছে যে হুমকি বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে হুমকি প্রদানকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১২০ (সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য দণ্ড) এবং ধারা ৩৩১ (বোমা তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার) অনুসারে দায়ী করা হবে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে আইটি ফরেনসিক দল কাজ করছে।
ডিজিটাল বিশ্লেষণ থেকে ই-মেইলের উৎস, আইপি ঠিকানা এবং ফোন কলের রেকর্ড ট্রেস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলগুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তদন্তের গতি বজায় রাখা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্রের মতে, হুমকি পাওয়া সাথেই জরুরি সেবা দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হয়। তদুপরি, হুমকির প্রকৃতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকগণ হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিছু স্কুলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে, আর অন্যগুলোতে ক্লাস পুনরায় শুরু করার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো হয়েছে এবং গোপন নজরদারি দল গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে এমন হুমকি প্রতিরোধে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বয় বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, দিল্লি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং কোনো বাস্তবিক হুমকি সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখবে। তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।



