নাটোরের গুরুদাসপুরের ঝাউপাড়া এলাকায় রাত ৪ টার দিকে এক বেসামরিক বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৩০ বছর বয়সী আতিয়া খাতুন ও তার এক বছর বয়সী কন্যা রওজা খাতুন দুজনের প্রাণ শেষ হয়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তবে আগুনের তীব্রতা বাড়ার ফলে পুরো ঘরই ছাইয়ের স্তূপে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তারা জানান, বাড়ির ভিতরে বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি ঘটার ফলে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যায়।
ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে, পরে তা গুরুদাসপুর থানা-ইনস্পেকশনে হস্তান্তর করে। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং পরিবারকে জানানো হয়।
আতিয়া খাতুনের বয়স ৩০ বছর এবং তার কন্যা রওজা খাতুনের বয়স মাত্র এক বছর। দুজনেরই নাম স্থানীয় রেকর্ডে পাওয়া যায় এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরিবারকে শোক প্রকাশের জন্য জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের অনুমান অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয় প্রয়োজন হবে।
ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। থানা-ইনস্পেকশন দল ঘটনাস্থলে ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে সম্ভাব্য দায়িত্বশীল কারণগুলো নির্ণয় করবে। মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমানের মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের ভিতরে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এবং আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা নিরাপদে বের হতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা হতে পারে অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের অধীনে। তদন্তের সময় যদি কোনো অবহেলা বা অনিয়ম প্রকাশ পায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগ এই ঘটনার পর বাড়িগুলোর বৈদ্যুতিক সিস্টেমের ব্যাপক পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। বাসিন্দাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করে পুরনো তার, প্লাগ এবং সুইচ পরিবর্তন করতে এবং অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত পরিবার এখন শোকের মধ্যে রয়েছে এবং স্থানীয় সমাজের সমবেদনা পেতে রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



