মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান তামা, কোবাল্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এই কৌশলটি অফটেক চুক্তি এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত তহবিলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা এই সপ্তাহের ক্যাপ টাউনের ইন্ডাবা খনি সম্মেলনে আলোচনার প্রধান বিষয় হবে।
অফটেক চুক্তি হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোনো দেশ বা কোম্পানি খনির আউটপুটের একটি অংশের অধিকার অর্জন করে, তার বিনিময়ে অর্থায়ন বা অন্যান্য সহায়তা প্রদান করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মডেলকে ব্যবহার করে জাম্বিয়া, গিনি এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কংগো (ডিআরসি)‑এর খনি প্রকল্পে প্রবেশ করছে।
ডিআরসি বিশ্বব্যাপী কোবাল্টের ৭০%‑এর বেশি সরবরাহ করে এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন তামা উৎপাদন করেছে। এই বিশাল সম্পদে প্রবেশের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অপারেশন চালু করার পরিবর্তে অফটেক ও ট্রেডিং কাঠামোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যার মধ্যে মেরকুরিয়া কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি এবং কংগো সরকারী খনি গেকামিনেসের সঙ্গে সমঝোতা অন্তর্ভুক্ত।
গেকামিনেস ২০২৩ সালে চীনের সিএমওসি (CMOC) সঙ্গে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জন্য প্রায় ১০০,০০০ টন টেনকে ফুংগুরুমে তামা বরাদ্দের বিপণন অধিকার অর্জন করেছে। এই তামা এই বছরই মার্কিন বাজারে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হবে, যা আফ্রিকান ধাতুর প্রবাহে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, অফটেক চুক্তি এবং তহবিলের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যে আফ্রিকান খনিজের গ্লোবাল প্রবাহে পরিবর্তন আনছে। তবে চীনের বিশাল স্কেল ও দ্রুতগতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে কতটা সক্ষম হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ইন্ডাবা সম্মেলনে উভয় দেশই নতুন বিনিয়োগ ও চুক্তি অনুসন্ধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা খনিজ ব্লক গঠন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যেখানে চীনও একই সময়ে তার স্বার্থ রক্ষার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নেবে।
অফটেক মডেল তামা ছাড়াও কোবাল্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতুতে বিস্তৃত হচ্ছে। শাংহাই মেটালস মার্কেটের বিশ্লেষক জানিয়েছেন যে, ডিআরসিতে চীনের কোবাল্ট সরবরাহ শৃঙ্খলে রপ্তানি সীমাবদ্ধতা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সহযোগিতা একসাথে ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি চীনের সরবরাহ চেইনে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ইউরোপের পেনসানা কোম্পানি, যা অঙ্গোলার খনিতে রেয়ার আর্থের ফিডস্টক উৎপাদন করে, যুক্তরাজ্যে রেয়ার আর্থ রিফাইনারি নির্মাণের পরিকল্পনা ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করেছে। কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রণোদনা ও বাজারের সম্ভাবনাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বহুমুখী কৌশল তামা, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থের মতো মূলধাতুর সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনতে লক্ষ্য রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদে চীনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
আসন্ন কয়েক মাসে ইন্ডাবা সম্মেলনের ফলাফল আফ্রিকান খনিজের গ্লোবাল বাজারে নতুন ভারসাম্য গড়ে তুলবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সমর্থন ও অফটেক চুক্তি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি হবে।



