২০২৬ সালের সুপার বোলের হাফটাইম শোতে পুয়ের্তো রিকান র্যাপার ও গায়ক বেড বানি এনএফএল মাঠে ১৩ মিনিটের একটি পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন। শোতে তিনি লেডি গাগা ও রিকি মার্টিনের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন এবং দুইটি মূল বার্তা দিয়ে শেষ করেন: “ঘৃণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী কিছু হল ভালোবাসা” এবং “একসাথে, আমরা আমেরিকা”।
পারফরম্যান্সের পর বিভিন্ন শিল্পী ও পাবলিক ফিগার সামাজিক মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। গ্র্যামি বিজয়ী কেসি মাসগ্রেভস X-এ লিখে জানান, বেড বানির শো তাকে এমনভাবে গর্বিত করে তুলেছে যা তিনি আগে কিড রকের কোনো পারফরম্যান্সে অনুভব করেননি। তিনি এটিকে আমেরিকান গর্বের নতুন উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত জন মেলেনক্যাম্পও X-এ একটি সমর্থনসূচক বার্তা পোস্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেড বানি পুয়ের্তো রিকোর জন্য দাঁড়িয়ে আছেন এবং তিনি তার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। মেলেনক্যাম্প শোকে “দারুণ” বলে প্রশংসা করেন।
ইন্টারনেটের অন্য প্রান্তে, ইউটিউবের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার জেক পল শো নিয়ে তীব্র বিরোধ প্রকাশ করেন। তিনি X-এ লিখে বলেন, শোটি “উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে বন্ধ করা” উচিত এবং দর্শকদেরকে বড় কর্পোরেশনগুলোকে তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ করতে আহ্বান জানান। পল শোকে “একজন নকল আমেরিকান নাগরিকের পারফরম্যান্স” বলে সমালোচনা করেন এবং যুক্তি দেন যে শোটি আমেরিকান মূল্যবোধের বিরোধী।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই প্ল্যাটফর্মে (ট্রুথ সোশ্যাল) বেড বানির শোকে “সম্পূর্ণভাবে ভয়ানক” এবং “ঘৃণ্য” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শোতে ব্যবহৃত নাচ ও গানের কথা তিনি বুঝতে পারছেন না এবং তা শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত। ট্রাম্পের মন্তব্যে শোকে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকারক” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্ক্যান্ডাল সিরিজের অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন থ্রেডসে শো সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি শোকে “একটি পারফরম্যান্স যা L শব্দের সর্বোচ্চ উদাহরণ” বলে বর্ণনা করেন, যদিও সম্পূর্ণ বাক্যটি প্রকাশিত হয়নি। তার মন্তব্য শোয়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাবের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
বেড বানির হাফটাইম শোটি তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তার জন্য ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শোটি পুয়ের্তো রিকোর সংস্কৃতি ও পরিচয়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে, একই সঙ্গে আমেরিকান সমাজের বহুমুখিতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দিয়েছে। তবে শোয়ের বিষয়বস্তু ও শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতবিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা সামাজিক মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
শোয়ের সমর্থকরা বেড বানির বার্তাকে ঐক্য ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেন, আর সমালোচকরা শোকে আমেরিকান মূল্যবোধের বিরোধী এবং অপ্রাসঙ্গিক বলে সমালোচনা করেন। এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া সুপার বোলের হাফটাইম শোকে শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার মঞ্চে পরিণত করেছে।
বেড বানির পারফরম্যান্সের পরবর্তী দিনগুলোতে মিডিয়া বিশ্লেষকরা শোয়ের রেটিং, দর্শকসংখ্যা এবং সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ারিং পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে, শোয়ের মাধ্যমে উত্থাপিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো ভবিষ্যৎ হাফটাইম শোয়ের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বেড বানির সুপার বোল হাফটাইম শোটি সঙ্গীত, নৃত্য ও রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয়ে একটি জটিল মঞ্চ তৈরি করেছে, যা বিভিন্ন স্তরে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই পেয়েছে। শোয়ের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া আগামী সপ্তাহে আরও বিশদে বিশ্লেষণ করা হবে।



