দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বৈঠক তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভা, নির্বাচনের পূর্বে সরকারের নীতিনির্ধারণী কাজের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস প্রথমে সচিবদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে মিলিত হবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে ৭৫ জন সচিব, যার মধ্যে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন অন্তর্ভুক্ত, সকলকে এই বৈঠকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচিবদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হলে, ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করবেন। এই পর্যায়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা, ভোটার নিরাপত্তা এবং ফলাফল ঘোষণার পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিয়ে মূল বিষয়গুলো আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সম্ভবত বিদায়ী ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সরকারের শেষ নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করবেন। একই সঙ্গে, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হবে।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ৮ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গৃহীত হয়। প্রায় দেড় বছর পর, এই প্রশাসন এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রান্তে পৌঁছেছে। এই সময়ে সরকার দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মৌলিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কোনো দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মতে, যদি সংসদ সদস্যরা তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করেন, তবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে হস্তান্তর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
শফিকুল আলমের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা আজকের বৈঠকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি নির্বাচনের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। এতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এই শেষ নীতিনির্ধারণী সেশন, সরকারকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে মসৃণ হস্তান্তরের ভিত্তি স্থাপন করতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। বিশেষ করে, নির্বাচনের পর যদি নতুন সরকার দ্রুত শপথ নেয়, তবে অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই শেষ বৈঠক, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৎক্ষণাৎ গৃহীত পদক্ষেপের সূচক হবে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর কোনো দেরি না করে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।
সর্বশেষে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, এবং এই শেষ বৈঠকটি সেই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।



