প্রকাশ রাজ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, টেলিগু ভাষার উচ্চাকাঙ্ক্ষী অ্যাকশন নাটক ‘স্পিরিট’ থেকে সৃজনশীল মতবিরোধের কারণে বাদ পড়েছেন। ছবিটি সানদীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালনা করছেন এবং প্রধান ভূমিকায় প্রভাস ও ত্রিপ্তি দিম্রি অভিনয় করছেন। শুটিং বর্তমানে হায়দ্রাবাদে চলছে এবং এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রকাশ পেয়েছে।
‘স্পিরিট’কে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প হিসেবে গন্য করা হচ্ছে; বিশাল বাজেট, বিস্তৃত সেট এবং আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের ব্যবহার এটিকে বিশেষ দৃষ্টিতে রাখে। প্রভাসের চরিত্রটি এক প্রাক্তন পুলিশ অফিসার, যিনি শক্তিশালী শত্রুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, এমন একটি গাঢ় গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রারম্ভিক প্রচার সামগ্রীতে প্রকাশ রাজের কণ্ঠস্বর এবং নাম স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল, যা দর্শকদের মধ্যে তার চরিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তার উপস্থিতি মূলত একটি বয়োজ্যেষ্ঠ চরিত্রের রূপে অনুমান করা হচ্ছিল, যা গল্পের গতি ও টোনকে প্রভাবিত করতে পারে।
শুটিং চলাকালীন স্ক্রিপ্টের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের বাস্তবায়ন নিয়ে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা দেয়। উভয় পক্ষই দৃশ্যের উপস্থাপনা ও সংলাপের ধরণ নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হন, যা শেষ পর্যন্ত তীব্র বিতর্কে রূপ নেয়।
বিতর্কের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু জনসাধারণের কাছে প্রকাশিত হয়নি, এবং প্রকাশ রাজ বা ছবির নির্মাতারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। তবে শুটিং টিমের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, মতবিরোধটি মূলত সৃজনশীল দিকের এবং তা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছিল।
এই ঘটনার পর প্রকাশ রাজের নাম ও কণ্ঠস্বরকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে তার পূর্বে ঘোষিত অংশটি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। তার পরিবর্তে অন্যান্য চরিত্রের ভূমিকা পুনর্গঠন করা হয়েছে, যদিও নতুন কাস্টের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
‘স্পিরিট’এর কাস্টিং প্রক্রিয়ায় পূর্বে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটেছিল। দ্যুতি-সৌন্দর্য্যের জন্য পরিচিত দীপিকা পাদুকোনে সময়সূচি ও অন্যান্য চাহিদা নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে প্রকল্প থেকে সরে যান।
দীপিকার পরিবর্তে ত্রিপ্তি দিম্রি চরিত্রে যুক্ত হন, যা পরিচালকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল। ত্রিপ্তি দিম্রি এখন প্রভাসের সঙ্গে প্রধান জুটিতে কাজ করছেন এবং তার উপস্থিতি ছবির বাজারযোগ্যতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সানদীপ রেড্ডি ভাঙ্গা, ‘গলফার’ ও ‘থ্রি ইন্ডিয়ানস’ মতো হিট ছবির পেছনের মস্তিষ্ক, ‘স্পিরিট’কে তার পরবর্তী বড় প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তার পূর্বের সাফল্য চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শুটিং টিমকে উচ্চ মান বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
হায়দ্রাবাদের বিভিন্ন লোকেশনে জটিল সেট নির্মাণ এবং রাতের শুটিংসহ বিশাল পরিসরের কাজ চলছে। দৃশ্যগুলোতে রুক্ষ শহুরে পরিবেশ ও তীব্র অ্যাকশন সিকোয়েন্সের মিশ্রণ দেখা যায়, যা চলচ্চিত্রের গাঢ় স্বরকে জোরদার করে।
প্রকাশ রাজের প্রস্থান সত্ত্বেও, ছবির উৎপাদন সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। মুক্তির তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা বাকি, তবে বছরের শেষের দিকে প্রিমিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশংসক ও শিল্প বিশ্লেষকরা ‘স্পিরিট’কে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার একটি সম্ভাব্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন, যদিও কাস্টিংয়ের অস্থিরতা কিছু উদ্বেগের কারণ। ছবির স্কেল, প্রধান অভিনেতা এবং পরিচালকের ট্র্যাক রেকর্ড এটিকে উচ্চ প্রত্যাশার তালিকায় রাখে।
এই ঘটনাটি বৃহৎ প্রকল্পে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে তা প্রকাশ করে। বহু উচ্চপ্রোফাইল শিল্পী একসাথে কাজ করার সময় পারস্পরিক সমঝোতা এবং যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
‘স্পিরিট’ শীঘ্রই দর্শকের সামনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাস্ট সদস্যরা স্ক্রিনে উপস্থিত হবেন তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে, চলচ্চিত্রটি এখনও তার মূল ধারণা ও ভিশন বজায় রেখে অগ্রসর হচ্ছে।



