অভিনেতা বিক্রান্ত মাসে এই সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নিতেশ তিওয়ারির রামায়ণ ছবিতে তিনি কখনো অংশগ্রহণ করেননি। গুজবটি মূলত রঘব জুয়ালকে মেহনাদ (ইন্দ্রজিৎ) চরিত্রে নিয়োগের খবরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উঠেছিল।
বিক্রান্ত মাসে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা শেয়ার করে গুজবকে খণ্ডন করেন। তিনি লিখেছেন, “রামায়ণ ছবিতে আমি কখনো কাজ করিনি, মিডিয়া পোর্টালগুলো যথাযথ যাচাই না করায় দুঃখজনক। সবাইকে শুভকামনা।” এই পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়, তবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
গুজবের মূল সূত্র হিসেবে ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রঘব জুয়ালকে রামায়ণ: পার্ট ২-এ মেহনাদের ভূমিকায় নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। মেহনাদ রাবণের বড় ছেলে এবং রামায়ণের গুরুত্বপূর্ণ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেদনে রঘবের ক্যাস্টিংকে দ্রুত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে এই চরিত্রটি বিক্রান্ত মাসের জন্য বিবেচিত ছিল, তবে পরিকল্পনা পরিবর্তনের ফলে রঘবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে মিডিয়া গুলো বিক্রান্তের বদলি হওয়ার গুজব ছড়িয়ে দেয়।
বিক্রান্ত মাসে পরে স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি ছবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সংযোগ রাখেননি এবং কোনো ধাপেই নির্বাচিত হননি। তার মুছে ফেলা স্টোরি পোস্টটি গুজবের বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে ছিল বলে অনুমান করা যায়।
নিতেশ তিওয়ারির রামায়ণ প্রকল্পটি দুই ভাগে ভাগ করা একটি বৃহৎ স্কেলের লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র হিসেবে পরিকল্পিত। প্রাচীন মহাকাব্যের এই রূপান্তরকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
চিত্রনাট্যটি রাম, সীতা, রাবণ, হনুমান এবং লক্ষ্মণসহ প্রধান চরিত্রে বিশিষ্ট অভিনেতাদের নিয়ে গঠিত। রণবীর কাপুর লর্ড রাম হিসেবে, সাই পল্লবী দেবী সীতা হিসেবে, ইয়াশ রাবণ হিসেবে, সানি দেল হনুমান হিসেবে এবং রাভি দুবে লক্ষ্মণ হিসেবে কাজ করবেন।
এছাড়াও ছবিতে অন্যান্য পরিচিত মুখের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই বিশাল কাস্টিং দলটি রামায়ণের জটিল কাহিনীকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুজবের বিস্তার সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভক্ত ও শিল্পপর্যবেক্ষকরা উভয় পক্ষের মন্তব্যে সক্রিয় ছিলেন। বিক্রান্তের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের পরেও কিছু মন্তব্যকারী এখনও গুজবের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিক্রান্ত মাসের এই স্পষ্ট মন্তব্য এবং রঘব জুয়ালের ক্যাস্টিং নিশ্চিত হওয়ায় গুজবের মূল সূত্রটি পরিষ্কার হয়েছে। চলচ্চিত্রের পরবর্তী আপডেট এবং মুক্তির তারিখ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে মিডিয়া রিপোর্টের যথাযথ যাচাইয়ের গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে, এবং দর্শকরা এখন রামায়ণ ছবির আসল কাস্ট ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।



