সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি টু-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২০ রানে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সূচনা করেছে। শ্রীলঙ্কা ১৬৩ রান ছয় উইকেটে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, আর আয়ারল্যান্ড ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে শেষ হয়। এই জয় শ্রীলঙ্কার জন্য দুই পয়েন্টের শক্তিশালী সূচনা এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিক একাদশ জয় নিশ্চিত করে।
শুরুতে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে কঠোরভাবে চাপে রাখে। চার ওভার বাকি থাকলেও শ্রীলঙ্কা মাত্র ১০৪ রান চৌদ্দ উইকেটে গড়ে তুলতে পারে, যা দেখায় যে আইরিশ বোলিং প্রাথমিকভাবে কার্যকর ছিল। তবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে রেট বাড়াতে থাকে এবং স্কোরকে পুনরায় উঁচুতে নিয়ে যায়।
ম্যাচের মোড় পরিবর্তন ঘটে যখন আয়ারল্যান্ডের ফিল্ডাররা একের পর এক ক্যাচ মিস করে। বিশেষ করে ১৭তম ওভারে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ না নেওয়ায় শ্রীলঙ্কা অতিরিক্ত ২১ রান যোগ করে, যা তাদের স্কোরে বড় পার্থক্য তৈরি করে। মোট চারটি ক্যাচ বাদ পড়া এবং অন্যান্য ফিল্ডিং ত্রুটি শ্রীলঙ্কাকে রিলিফ দেয়।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে কুশল মেন্ডিসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ৪৩ রান এবং কামিন্দু মেন্ডিসের ১৯ রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুজনই অল্প ওভারেই দ্রুত রান সংগ্রহ করে, ফলে দলটি ৬ উইকেটে ১৬৩ রান সম্পন্ন করে। এই পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কাকে নিরাপদে লক্ষ্য স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
আয়ারল্যান্ডের শিকড়ে ফিরে এসে তারা ৪৫ রান দিয়ে শক্তিশালী শুরুর ইঙ্গিত দেয়। হ্যারি টেক্টর এবং লরকান টাকার যৌথ প্রচেষ্টা ১৫ ওভারে ১০৫ রান দুই উইকেটে নিয়ে আসে, যা তাদেরকে সমান সুযোগের দিকে নিয়ে যায়। তবে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের আক্রমণাত্মক বোলিং তাদেরকে দ্রুত পতন ঘটায়।
স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং দুনিথ ভেলালাগের ঘূর্ণায়মান বলের সামনে আয়ারল্যান্ডের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে। তারা মাত্র ৩৮ রানের ব্যবধানে শেষ আটটি উইকেট হারায়, যা টাকার ও টেক্টরের প্রত্যাবর্তনকে বাধা দেয়। এই সময়ে দলটি দ্রুত স্কোর হারায় এবং শীর্ষে পৌঁছাতে পারে না।
মাহিশ থিকশানা শেষ পর্যায়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়, যা আয়ারল্যান্ডের পরাজয় নিশ্চিত করে। তার পরপর দুই বলেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে আউট করে, দলটির পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তোলে। এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শ্রীলঙ্কার দিক থেকে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং মাহিশ থিকশানা প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট নিয়ে শীর্ষ পারফরম্যান্স দেখায়। তাদের বোলিং শ্রীলঙ্কাকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভয়ঙ্কর চাপ দেয় এবং আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংকে ব্যাহত করে। এই উইকেটগুলো ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে।
কামিন্দু মেন্ডিসকে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার দেওয়া হয়। তার ১৯ রান এবং গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ডিং অবদান শ্রীলঙ্কার জয়কে আরও দৃঢ় করে। এই স্বীকৃতি তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আয়ারল্যান্ডের বোলিং শুরুতে নিয়ন্ত্রিত ছিল, তবে ফিল্ডিংয়ের বিশৃঙ্খলা এবং স্পিনের প্রতি দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্যাচ না নেওয়া এবং ফিল্ডিং ত্রুটি শ্রীলঙ্কাকে অতিরিক্ত রান সংগ্রহের সুযোগ দেয়, যা ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্যায়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায় এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। দলটি এখন টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে, আর আয়ারল্যান্ডের জন্য এই পরাজয় পুনর্গঠন ও উন্নতির সংকেত দেয়।



