অস্থায়ী সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই সিদ্ধান্তটি আর্থিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক গভার্নর আহসান এইচ. মানসুরের কাছে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করেন। interim সরকার শেষের দিকে পৌঁছেছে এবং মূল আইন পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন ও সময়ের অভাব রয়েছে বলে তিনি যুক্তি দেন।
সেলাহুদ্দিন আহমেদ চিঠিতে পরামর্শ দেন যে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারটি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মৌলিক আইনটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তি এবং কোনো পরিবর্তন সতর্ক বিশ্লেষণ ও বিস্তৃত পরামর্শের মাধ্যমে করা দরকার।
গত বছর অক্টোবর মাসে গভার্নর মানসুর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ সালের আইনগত কাঠামো সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করার জন্য আর্থিক উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। তিনি স্বায়ত্তশাসন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা পেতে চান।
মানসুরের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি, বোর্ডের গঠন পুনর্গঠন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বরখাস্ত প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তনগুলোকে সমর্থনকারী নথিতে বিশদ যুক্তি ও আন্তর্জাতিক তুলনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
অস্থায়ী সরকারের শেষের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে গভার্নর মানসুর গত মাসে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এই সংস্কার বিলম্বের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পর আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সহজ হবে না এবং সময়সীমা সংকুচিত হতে পারে।
কয়েক দিন পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকরী সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে দেখা যায়। তবে IMF উল্লেখ করে যে, মূল নীতি সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী নির্বাচিত প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে।
সেলাহুদ্দিন আহমেদ, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, তার চিঠিতে সতর্ক সুরে বলেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার একটি মৌলিক আইন এবং এর কোনো পরিবর্তন গভীর বিশ্লেষণ ছাড়া করা উচিত নয়। তিনি প্রস্তাব করেন যে, সংশোধনের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোকে বিশদভাবে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার।
এই পরামর্শের ভিত্তিতে অস্থায়ী সরকার আইনগত পরিবর্তনকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে, স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির মূলধারার সংস্কার পরিকল্পনা এখন নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভরশীল।
প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডে স্বতন্ত্র সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো, গভার্নরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পারদর্শিতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্তের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড স্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবশ্যই, এই সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পরবর্তী সরকারকে আইনসভা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে। সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ও রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জন করা না হলে সংস্কার পরিকল্পনা বিলম্বিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর এই উদ্যোগটি পরবর্তী সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি নতুন সরকার এই সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বতন্ত্রতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
অন্যদিকে, যদি রাজনৈতিক বিরোধিতা বা আইনগত জটিলতা কারণে সংস্কার বিলম্বিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে চলমান ঋণ চুক্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রোগ্রামেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই, অস্থায়ী সরকার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দায়িত্বের স্বচ্ছতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সারসংক্ষেপে, অস্থায়ী সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত সংস্কার পরিকল্পনা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে অর্পণ করেছে, এবং আর্থিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে সতর্ক পর্যালোচনা ও ব্যাপক পরামর্শের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই সংস্কারগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নতুন সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।



