নিউইয়র্কে অবস্থিত রিলা, একটি প্রযুক্তি স্টার্ট‑আপ, যা AI‑ভিত্তিক সেলস মনিটরিং সিস্টেম বিক্রি করে, তার কর্মসংস্থান বিজ্ঞাপনগুলোতে সপ্তাহে প্রায় ৭০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা উল্লেখ করেছে। কোম্পানির ক্যারিয়ার পেজে তরুণ কর্মীদের হাসিখুশি ছবি ও “অত্যন্ত দ্রুত গতি”, “অসীম কৌতূহল”, “গ্রাহক‑মুখী” মত স্লোগান দেখা যায়, পাশাপাশি বেতন, বিনামূল্যে খাবার, জিম সদস্যতা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিজ্ঞাপনগুলোতে স্পষ্ট সতর্কতা রয়েছে: “যদি আপনি ৯০ ঘণ্টা‑এরও বেশি কাজের পরিবেশে উচ্ছ্বসিত না হন, তবে আবেদন করবেন না”। রিলার কর্মচারীরা সাধারণত সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে, যা স্থানীয়ভাবে “৯৯৬” সংস্কৃতি নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি দীর্ঘ সময়ের কাজকে স্বাভাবিক হিসেবে গৃহীত করে এবং কর্মীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অবিচল নিষ্ঠা দাবি করে।
রিলার বৃদ্ধির দায়িত্বে থাকা উইল গাও বলেন, কোম্পানির কর্মশক্তি ১২০ জন, যারা নিজেদেরকে অলিম্পিক ক্রীড়াবিদদের মতো কঠোর প্রশিক্ষণশীল হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীরা “অসীম উচ্চাকাঙ্ক্ষা” ও “অবিরাম উদ্যম” নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে এবং কাজের সময়সূচি কঠোর নয়; কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা বা প্রকল্পে মনোনিবেশ করলে রাত ২‑৩ টা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারে, পরের দিন দেরি করে শুরুর সুযোগ থাকে।
এই ধরনের নমনীয় কিন্তু তীব্র কাজের পদ্ধতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি শিল্পে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষেত্রের অগ্রগতি দ্রুতগতিতে ঘটছে, ফলে বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলো AI‑কে পণ্য ও সেবায় সংযুক্ত করার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা AI স্টার্ট‑আপে বিশাল মূলধন ঢেলে দিচ্ছেন, যা কর্মশক্তির চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে এবং দীর্ঘ সময়ের কাজকে স্বাভাবিক করে তুলেছে।
রিলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো AI‑এর মাধ্যমে বিক্রয় প্রতিনিধিদের কার্যক্রম রিয়েল‑টাইমে ট্র্যাক করতে সক্ষম সিস্টেম প্রদান করে, যা ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স উন্নতিতে সহায়তা করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলো কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং বিক্রয় চক্রকে ত্বরান্বিত করতে চায়। ফলে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ বাড়ে, যদিও কোম্পানি সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিশ্রুতি দেয়।
কর্মসংস্থান বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত সুবিধাগুলোতে বিনামূল্যে খাবার, জিমের সদস্যতা, এবং পূর্ণ স্বাস্থ্য ও ডেন্টাল কভারেজ অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধাগুলো দীর্ঘ সময়ের কাজের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। তবে কর্মীরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের কাজের ফলে ব্যক্তিগত সময়ের ঘাটতি ও কাজ‑জীবন সমতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রিলার কর্মশক্তি ৯৯৬ সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে কিনা, তা এখনো প্রশ্নের মুখে। কিছু কর্মী এই পরিবেশকে উদ্যমী ও সৃজনশীল বলে প্রশংসা করেন, অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের কাজের ফলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও মানসিক চাপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কোম্পানি দাবি করে যে কাজের সময়সূচি নমনীয়, তবে বাস্তবে অধিকাংশ কর্মী সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টার বেশি কাজ করে।
AI প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বাজারে নতুন পণ্য ও সেবা দ্রুত প্রকাশিত হচ্ছে। রিলার মতো কোম্পানি AI‑এর মাধ্যমে বিক্রয় ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহক আচরণ পূর্বাভাস এবং বিক্রয় কৌশল অপ্টিমাইজ করার সমাধান প্রদান করে, যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করে। এই সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মশক্তির চাহিদা ও কাজের সময়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী AI‑ভিত্তিক স্টার্ট‑আপে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২৩‑২০২৪ সালে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই প্রবণতা রিলার মতো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত স্কেল আপ করতে এবং কর্মী নিয়োগে উচ্চমানের চাহিদা বজায় রাখতে বাধ্য করে। ফলে দীর্ঘ সময়ের কাজের সংস্কৃতি আরও দৃঢ় হয়, বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো উচ্চপ্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি হাবে।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, কর্মীরা স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে পারে এবং তা স্বীকৃত হয়। তবে কোনো বাধ্যতামূলক সময়সূচি নেই; কর্মী যদি রাতের বেলা কাজ শেষ করে, পরের দিন দেরি করে শুরুর অনুমতি রয়েছে। এই নমনীয়তা কিছু কর্মীর জন্য আকর্ষণীয় হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কাজের ঘন্টা নিয়ন্ত্রণের অভাব কর্মস্থলের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
রিলার উদাহরণে দেখা যায়, AI গল্ড রাশে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে চায়, তবে তা অর্জনের জন্য কর্মশক্তির উপর উচ্চ চাহিদা আর দীর্ঘ কাজের সময় আরোপ করে। এই প্রবণতা শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠন করবে, যেখানে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই কাজ‑জীবন সমতা, স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



