নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন অভিনেত্রী পেগি স্টেফ্যান্স, যিনি ১৯৬০-এর দশকে সেক্সএক্সপ্লোয়েটার জোসেফ ডব্লিউ. সার্নোর সঙ্গে কাজ করে পরিচিত ছিলেন, ৮৭ বছর বয়সে আরামবোধে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদটি চলচ্চিত্র জগতের বহু ভক্তের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেফ্যান্সের পুত্র, চলচ্চিত্র সম্পাদনা পরিচালক ম্যাথিউ সার্নো, এই তথ্যটি প্রকাশ করেন।
স্টেফ্যান্সের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে, যখন তিনি ‘দ্য বেড অ্যান্ড হাউ টু মেক ইট!’, ‘দ্য সেক্স সাইকেল’ এবং ‘কম রাইড দ্য ওয়াইল্ড পিংক হর্স’ মতো সফট-পর্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিগুলোতে তিনি প্রায়শই ক্লেও নোভা নামের ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যা তার স্বতন্ত্র শৈলীর প্রতীক হয়ে ওঠে। এই সময়ের কাজগুলো তাকে সেক্সএক্সপ্লোয়েটার ধারার অন্যতম মুখবিন্দুতে পরিণত করে।
১৯৭০ সালে জোসেফ সার্নোর সঙ্গে বিবাহের পর তিনি পর্দা থেকে সরে এসে চলচ্চিত্রের পেছনের কাজগুলোতে মনোনিবেশ করেন। সহ-নির্দেশক, পোশাক ডিজাইনার, সেট সাজানোর দায়িত্ব, স্ক্রিপ্ট সুপারভাইজার এবং প্রোডাকশন ডিজাইনারের মতো বিভিন্ন পদে তিনি কাজ করেন। এই বহুমুখী ভূমিকা তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণের সব দিকেই পারদর্শী করে তুলেছিল। তার অবদানগুলো সার্নোর চলচ্চিত্রের স্বতন্ত্র রঙে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।
২০১৩ সালে সুইডিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা বিক্টর এরিকসন ‘দ্য সার্নোস: এ লাইফ ইন ডার্টি মুভিজ’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেন, যেখানে পেগি ও তার স্বামীর যৌথ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের প্রতি তিনি গভীর প্রশংসা প্রকাশ করেন এবং এটিকে তাদের যৌথ জীবনের একটি সত্যিকারের সাক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন। ডকুমেন্টারিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়ে, সার্নো দম্পতির কাজের নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়।
পেগি স্টেফ্যান্সের জন্ম নাম ছিল পেগি সিলভারম্যান, তিনি ১১ অক্টোবর ১৯৩৮ সালে নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ফিলিস একজন শিল্পী এবং বাবা ম্যাথিউ একজন শ্রমিক আইনজীবী ছিলেন। কুইন্সের বেসাইড হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি স্কিডমোর কলেজে ভর্তি হন এবং পরে এডিনবার্গের একটি কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যান। এরপর লন্ডনের রয়্যাল একাডেমি অফ ড্রামাটিক আর্টে অভিনয় প্রশিক্ষণ নেন, যা তার শিল্পী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে স্টেফ্যান্স এবং শেলিয়া ফিন দুজনই আদলফাস মেকাস পরিচালিত ‘হ্যালেলুজাহ দ্য হিলস’ (১৯৬৩) ছবিতে একই চরিত্রের দুটি ভিন্ন রূপে অভিনয় করেন। এই কাজের জন্য তারা ক্যান্সে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের পরিচয় বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে প্যাডি চেয়েফস্কি রচিত ‘দ্য প্যাশন অফ জোসেফ ডি.’ নাটকে তিনি ব্রডওয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন, যা তার থিয়েটার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তার কর্মজীবনের সময়কালে পেগি স্টেফ্যান্স ভবিষ্যৎ অস্কার-নোমিনেটেড প্রোডাকশন ডিজাইনার পলি প্ল্যাটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। এই বন্ধুত্ব তার শিল্পী নেটওয়ার্ককে সমৃদ্ধ করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তার জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চলচ্চিত্রের পেছনের কাজগুলোতে নিঃস্বার্থভাবে অবদান রাখতেন, যা তার সমর্পণ ও নিষ্ঠার পরিচায়ক।
পেগি স্টেফ্যান্সের মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার কাজ ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। তিনি যে সময়ে নারী অভিনেত্রীদের জন্য সীমিত সুযোগ ছিল, তবু তিনি নিজের পথ তৈরি করে, পর্দা ও পর্দার পেছনে উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃতি অর্জন করেন। তার জীবনকথা আজও সেক্সএক্সপ্লোয়েটার ধারার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।



