ম্যানচেস্টার সিটি লিভারপুলের ঘরে অ্যানফিল্ডে ৩-২ স্কোরে জয়লাভ করে, শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের পেছনে ছয় পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। গেমের শেষ পর্যায়ে দু’টি গোলের মাধ্যমে দলটি বিপর্যয় থেকে ফিরে এসে, ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অ্যানফিল্ডে জয় নিশ্চিত করেছে।
প্রথমার্ধে লিভারপুলের ডোমিনিক শজোবস্লাই ৭৪তম মিনিটে চমকপ্রদ ফ্রি-কিক মারেন, যা ম্যাচের স্কোরকে ১-০ করে তুলেছিল। শজোবস্লাইয়ের গোলের পর লিভারপুলের আধিপত্য বাড়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণাত্মক চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
গেমের শেষের দিকে ম্যানচেস্টার সিটির বার্নার্দো সিলভা ৮৬তম মিনিটে সমতা রক্ষা করেন, ফলে স্কোর ১-১ হয়ে যায়। এরপর এর্লিং হাল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে ২-১ করে তোলেন, যা বিজয়ের দিকে ধাবিত করে। শেষ মুহূর্তে রায়ান চেরকি মাঝখানে থেকে শট মারেন, তবে লিভারপুলের গার্ডেনার আলিসন গোলের বাইরে থাকায় তা গোল হিসেবে গণ্য হয়নি।
বার্নার্দো সিলভা গেমের পর প্রকাশ করেন, “যদি আমরা এই ম্যাচ হারাতাম, শিরোপা লড়াই শেষ হয়ে যেত।” তার এই মন্তব্য দলটির জয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে, বিশেষ করে শিরোপা শিরোনামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুআরডিয়োলা জয় উদযাপন করার পাশাপাশি দলের উন্নতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি হয়তো অন্যদের চেয়ে বেশি আশাবাদী, নয়টি পয়েন্টের ব্যবধানে আর্সেনালকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছি, তবে তিনটি বেশি হারে তারা হেরে যাবে কি না তা বলা কঠিন।” গুআরডিয়োলা আরও যোগ করেন, “কিছুটা উন্নতি শিরোপা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে এখনও উন্নতির জায়গা আছে। আমাদের আর্সেনালের বাড়ি ম্যাচে জিততে হবে, এবং বাকি তেরটি লিগ গেমে আমাদের কাজের পরিমাণ বেশি।”
গুআরডিয়োলা উল্লেখ করেন, “যখন শেষের দিকে রিলিগেশন লড়াইয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতে হয়, তখন তারা বেঁচে থাকার জন্য সবকিছু দেবে, আর আমাদেরকে কাপের প্রতিযোগিতা, ইউরোকারি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোও সামলাতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপ শিরোপা লড়াইকে কঠিন করে তোলে।” তিনি যোগ করেন, “এখন আমাদের কাজ হল আর্সেনালের গলা চেপে ধরা, তাদের কোনো ভুল হলে তা কাজে লাগানো।”
গেমের শেষের দিকে শজোবস্লাইকে লাল কার্ড দেখানো হয়, কারণ তিনি হাল্যান্ডকে টেনে ধরেছিলেন এবং হাল্যান্ডও একই সময়ে মিডফিল্ডারকে টেনে ধরার অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন। ফলে শজোবস্লাই পরবর্তী ম্যাচে অংশ নিতে পারবে না, এবং ম্যানচেস্টার সিটি একটি ফ্রি-কিক পায়। গুআরডিয়োলা এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করে বলেন, “এটা স্বাভাবিক বুদ্ধি, আমরা জিতেছি, আর শজোবস্লাই এখন খেলতে পারবে না।”
অ্যানফিল্ডে এই জয় ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে, কারণ ২০০৩ সালের পর প্রথমবার তারা লিভারপুলের ঘরে জয়লাভ করেছে। শিরোপা লিডার আর্সেনালের সঙ্গে নয়টি পয়েন্টের ব্যবধান কমে ছয় পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা শিরোপা লড়াইকে আরও তীব্র করেছে।
আগামী সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটি আর্সেনালের সঙ্গে বাড়িতে মুখোমুখি হবে, যেখানে গুআরডিয়োলা দলের জয়কে শিরোপা জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে দলটি ইউরোকারি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শিরোপা লড়াইয়ে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।



