সাংগীতিক দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ নামের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের স্যাক্রামেন্টোতে গঠিত রক ব্যান্ড কেকের প্রতিষ্ঠাতা গিটারবাদক গ্রেগ ব্রাউন, সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর এই পৃথিবী ত্যাগ করেছেন। ব্যান্ডের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার তার মৃত্যু জানানো হয়, যেখানে একটি সাদা-কালো ছবি দিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রাউনের বয়স সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও, ২০২১ সালের বিলবোর্ডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি ৫১ বছর বয়সী ছিলেন। তাই অনুমান করা যায়, তিনি ২০২৬ সালে প্রায় ৫৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যান্ডের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়নি, শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে।
কেকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবাণীতে বলা হয়েছে, গ্রেগ ব্যান্ডের প্রারম্ভিক সাউন্ড গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। তার সৃষ্টিশীল অবদান এবং ব্যক্তিগত উপস্থিতি উভয়ই দলের জন্য অমূল্য ছিল এবং সবার হৃদয়ে গভীর শূন্যতা রেখে যাবে। “গডস্পিড, গ্রেগ” শব্দগুলোতে ব্যান্ডের সদস্যদের গভীর শোক প্রকাশ পেয়েছে।
বর্তমানে কেকের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে গায়ক জন ম্যাকক্রিয়া, ট্রাম্পেট ও কীবোর্ডবাদক ভিন্স ডিফিওরে, গিটারবাদক জ্যান ম্যাককার্ডি, বেসিস্ট ড্যানিয়েল ম্যাককালাম এবং ড্রামার টড রপার। যদিও গ্রেগের সঙ্গে এখনো কোনো সঙ্গীত রেকর্ড করা হয়নি, তার প্রাথমিক কাজগুলো এখনও ভক্তদের মধ্যে স্মরণীয়।
কেক ব্যান্ডের সূচনা ১৯৯১ সালে স্যাক্রামেন্টোতে হয়। গ্রেগ ব্রাউন, জন ম্যাকক্রিয়া, ভিন্স ডিফিওরে এবং অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে গিটারে তার দক্ষতা দিয়ে দলকে গঠন করেন। প্রথম দুই অ্যালবাম—১৯৯৪ সালের “Motorcade of Generosity” এবং ১৯৯৬ সালের “Fashion Nugget”—এ তিনি গিটার বাজিয়ে ব্যান্ডের স্বতন্ত্র সুরকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৬ সালে প্রকাশিত “The Distance” গানটি কেকের অন্যতম হিট হয়ে ওঠে। এই গানের সুর ও গীতিকবিতা গ্রেগেরই রচনা, এবং এটি বিলবোর্ডের আল্টারনেটিভ এয়ারপ্লে চার্টে চতুর্থ স্থানে পৌঁছায়। গানের জনপ্রিয়তা ব্যান্ডের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং গ্রেগের সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেয়।
গানটি নিয়ে গ্রেগের নিজস্ব মতামতও প্রকাশ পেয়েছে। ২০২১ সালে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি মূলত ফ্র্যাঙ্ক সিনাট্রার গানের দিকে বেশি ঝুঁকতেন, তবে রেকর্ড লেবেল “The Distance” বেছে নেয় এবং তা সফল হয়। এই বিবরণ থেকে দেখা যায়, যদিও তিনি নিজের পছন্দের সঙ্গীতের দিকে ঝুঁকতেন, তবু শেষ পর্যন্ত ব্যান্ডের সাফল্যে তার অবদান অস্বীকার করা যায় না।
ফ্যাশন নাগেটের ট্যুর শেষ করার পর ১৯৯৭ সালে গ্রেগ ব্যান্ড ছেড়ে যান। তার প্রস্থানটি তখন দলের মধ্যে কিছুটা অশান্তি তৈরি করলেও, পরবর্তী বছর কেক তৃতীয় অ্যালবাম “Prolonging the Magic” প্রকাশ করে। গ্রেগের বিদায়ের পেছনে তিনি নিজে উল্লেখ করেন, তখন তার বয়স ২৭ এবং তিনি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তীব্র বিরোধের মুখে ছিলেন।
বছরের পর বছর, ২০২১ সালে ৫১ বছর বয়সে তিনি আবার নিজের অতীতের দিকে তাকিয়ে বলেন, তখনের পরিস্থিতি এখন তার দৃষ্টিতে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। এই আত্মবিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে এবং তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
গ্রেগের গিটার বাজানো এবং গীতিকবিতা রচনা কেকের শুরুর দিকের সাউন্ডকে গঠন করেছে। তার বাদ্যযন্ত্রে থাকা সূক্ষ্মতা এবং সৃজনশীলতা ব্যান্ডের সঙ্গীতকে অনন্য রঙ দিয়েছে, যা আজও ভক্তদের মধ্যে সজীব। তার অবদান কেবল গানের সাফল্যে নয়, ব্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সংস্কৃতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
কেকের সদস্যরা এবং ভক্তরা গ্রেগের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। তার গিটার এবং গানের মাধ্যমে তিনি যে সুর ছেড়েছেন, তা ভবিষ্যতেও শোনার জন্য অপেক্ষা করবে। সঙ্গীতের জগতে তার নাম চিরকাল অম্লান থাকবে।
গ্রেগ ব্রাউনের মৃত্যু সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার সৃষ্টিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তার জীবনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী অধ্যায়টি সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নোট হিসেবে রয়ে যাবে।



