16 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

রবিবার রাত প্রায় ৯ টা ৩০ মিনিটে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম গুলি করে নিহত হন। ঘটনা রায়পুরা থানার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামে সংঘটিত হয়েছে। মৃতের বয়স পঞ্চাশ বছর এবং তিনি স্থানীয় বাজারে গরু বিক্রির কাজ করতেন।

রফিকুল ইসলাম মঙ্গল মিয়ার পুত্র এবং তার স্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন, যিনি গ্রামীন বিচার‑সালিসে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। পরিবারটি স্থানীয় সমাজে পরিচিত ও সম্মানিত এবং গরু ব্যবসা তাদের জীবিকার প্রধান উপায়।

সন্ধ্যাবেলা রফিকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুরা গ্রাম পার হচ্ছিলেন। তিনি সাধারণত চরমধুয়া বাজারে গরু বিক্রি করে বিক্রয় শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসতেন। হঠাৎ করে অজানা কয়েকজন ব্যক্তি তার দিকে গুলি চালিয়ে তাকে আহত করে দ্রুত পলায়ন করে। গুলির শব্দ শোনা মাত্রই আশপাশের গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রফিকুলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।

আহত রফিকুলকে তৎক্ষণাৎ নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকগণ তার শিরা-শিরা রক্তপাত এবং গুলির ক্ষত মূল্যায়ন করে মৃত্যুর ঘোষণা দেন। রফিকুলের মৃত্যুর খবর গ্রামজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

রায়পুরা থানার ওয়ানডি মুজিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে গুলির সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয় এখনো স্পষ্ট হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, গুলি চালানো ব্যক্তিরা দ্রুতই পলায়ন করেছে এবং কোনো সরাসরি সাক্ষী এখনও পুরো ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করতে পারেনি।

তদন্তে জানা যায়, একই এলাকার দুইটি পরিবারের মধ্যে পূর্বে বিরোধের ইতিহাস রয়েছে। পুলিশ এই পারিবারিক বিরোধকে সম্ভাব্য প্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করছে, তবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, গরু ব্যবসা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ কখনো কখনো হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে।

থানা দল গুলি চালানো ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে ফোরেন্সিক বিশ্লেষণ, সিআইডি ক্যামেরা রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করছে। গুলি চালানোর সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ও গুলি চিহ্ন নির্ণয়ের জন্য বুলেট রেজিস্ট্রি তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করে গ্রামাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হবে এবং প্রয়োজনীয় হলে গ্রেফতার আদেশ জারি করা হবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুলি চালিয়ে প্রাণহানি করা অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। রফিকুলের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে, তদন্তকারী দল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। গ্রামবাসীরা উল্লেখ করছেন, রাতে একা পথে চলা এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তারা দ্রুত নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। কিছু বাসিন্দা স্থানীয় মেয়র ও উপজেলা পরিষদের কাছে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোলের অনুরোধ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন এবং সামাজিক সংস্থা এই ধরনের হিংসা রোধে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা গ্রামীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং আয়োজন করে পারিবারিক বিরোধের সমাধান ও গরু ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে।

থানা ও উপপ্রধানের নির্দেশে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হবে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার হলে আদালতে দায়ের করা হবে। স্থানীয় আদালতকে এই মামলাটি দ্রুত শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ন্যায়বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments