বিএনপি শাসন ফিরে এলে মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার খরচ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হবে, এবং শিক্ষার বিস্তার বাড়ানো হবে, এই দাবি রবিবার গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে অনুষ্ঠিত নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা বিষয়ক আলোচনা-চা চক্রে জুবাইদা রহমান প্রকাশ করেন।
এই সভা গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচ ও নিকেতন এলাকার নারী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে আয়োজিত হয় এবং উপস্থিতদের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার ওপর মত বিনিময় হয়। জুবাইদা রহমান, যিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী, সভায় নারী উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী, তাই তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পূর্ণ নয়।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি মাতৃস্বাস্থ্যের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গর্ভবতী মা যদি সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পান, তবে সন্তান জন্মের সময়ই তাদের প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে, এ কথায় তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রাঙ্গণে নারীদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশের অবস্থা নিয়ে তিনি সতর্ক করেন। কর্মরত নারী ও শিক্ষার্থী প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন, যা তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল ও কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করে। নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
মাতৃত্বকালীন সুবিধা সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন। শাসন ফিরে এলে ছয় মাসের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হবে, পাশাপাশি নিরাপদ বাসস্থান, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং কর্মস্থলে ডে‑কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রতিটি মা কাজের সঙ্গে পরিবারকে সমন্বয় করতে পারে।
বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি একটি উদাহরণ দেন, যেখানে বৃদ্ধা নারীর শিকল দিয়ে বাঁধা হয়ে বাড়ি থেকে বের করে একটি বৃদ্ধাশ্রমের গেটের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ধরনের অবহেলা বন্ধ করতে এবং পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতি জানান।
নারী কল্যাণের জন্য বিশেষ সাপোর্ট সেল গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এই সাপোর্ট সেলটি নারীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান, আইনি সহায়তা এবং সামাজিক সেবা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পরিবেশ, যানজট ও পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত প্রকাশ করেন। জুবাইদা রহমান বলেন, এসব সমস্যার জন্য বিএনপির ইশতেহারে নির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
সেশনে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসিনা খান, স্থপতি ও পাইলট ক্যাপ্টেন ইয়াসমিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নায়লা জামান। গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে উদ্যোক্তা শায়লা রহমান, শেফ আল্পনা হাবিব এবং বনানী সোসাইটি থেকে নারী উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
সভা শেষে জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি শাসনে নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। তিনি শেষ পর্যন্ত সকল অংশগ্রহণকারীকে নারী উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।



