16 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমান্না ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে প্রত্যাহার, বগুড়া-২-এ মনোনিবেশ

মান্না ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে প্রত্যাহার, বগুড়া-২-এ মনোনিবেশ

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টার কাছাকাছি নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন। এটি তার পার্টির জন্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের শেষ ঘোষণা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ত্যাগের মূল কারণ তিনি ব্যয়জনিত অক্ষমতা উল্লেখ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে মান্না উল্লেখ করেন যে তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ দুটো আসন থেকে একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঢাকা-১৮ তার বিশাল ভৌগোলিক বিস্তারের জন্য পরিচিত, যেখানে সাতটির বেশি থানা ও প্রায় ছয় লক্ষের কাছাকাছি ভোটার নিবন্ধিত।

এই আসনটি সাতটি থানা ও প্রায় ছয় লক্ষ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ পার্লামেন্টারি এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এমন বিশাল ভোটার ভিত্তি পরিচালনা করতে প্রচুর আর্থিক সম্পদ ও সংগঠনগত কাঠামো প্রয়োজন।

মান্না পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে সংসদীয় নির্বাচনের ব্যয় তার সামর্থ্যের বাইরে। বহু কোটি টাকা ব্যয় করে প্রচার, কর্মী নিয়োগ ও ভোটার সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন, যা তিনি বর্তমানে বহন করতে অক্ষম।

এই আর্থিক সীমাবদ্ধতার আলোকে তিনি ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কিছু সমর্থক হতাশ হতে পারেন, তাই তিনি পোস্টে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মান্না একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের তহবিল ও সংগঠন ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। বগুড়া-২ তার নিজস্ব রাজনৈতিক গতিবিধি ও ভোটার গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত, যেখানে তিনি ইতিমধ্যে প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত।

ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার প্রত্যাহার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়েত উলুমের মত বড় দলগুলোর প্রার্থী এখন এই আসনে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেন।

বিশেষত, বিএনপি ও জামায়েত উলুমের প্রার্থী পূর্বে মান্নার উপস্থিতি থেকে ভোটার ভাগাভাগি করতে বাধ্য ছিলেন; তার অনুপস্থিতি তাদের ভোটের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। আওয়ামী লীগও এই পরিবর্তনকে তার নিজস্ব কৌশলগত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

প্রতিপক্ষের কিছু নেতা ইতিমধ্যে মান্নার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। তারা উল্লেখ করেন যে ভোটারদের জন্য পরিষ্কার পছন্দের তালিকা তৈরি হবে এবং প্রচারণা ব্যয় কমে যাবে।

মান্না বগুড়া-২ আসনে তার প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় সমাবেশের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদীয় নির্বাচনের শেষ তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রার্থীদের নিবন্ধন শেষের তারিখ শীঘ্রই আসন্ন। এই সময়সীমার মধ্যে মান্না বগুড়া-২ আসনে তার প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় নথি জমা দেবেন।

ঢাকা-১৮ আসনে তার প্রত্যাহার মান্নার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি বগুড়া অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়িয়ে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।

এই সিদ্ধান্তের ফলে নাগরিক ঐক্যের পার্টি ঢাকার বড় শহুরে এলাকায় তার উপস্থিতি হ্রাস পাবে, তবে বগুড়া-২-এ তার শক্তি বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments