17 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসেনা ক্যাম্পে ২১ সাংবাদিককে নেওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা

সেনা ক্যাম্পে ২১ সাংবাদিককে নেওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা

গত সপ্তাহে ঢাকার শাহবাগে ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবী করে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে এক নারী সেনাপ্রধানের মন্তব্যের পর, সেনাবাহিনী ২১ জন সাংবাদিককে সাময়িকভাবে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ঘটনায় সাংবাদিকরা কীভাবে আটক হলেন, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নারীর মন্তব্যে সেনাপ্রধানের নাম উল্লেখের পর, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে তাদের থেকে স্পষ্টীকরণ চায়। ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা নোটিশ প্রদান করা হয়নি, ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা প্রথম আলোকে জানান, সংশ্লিষ্ট ঘটনা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে এবং এতে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি বাকি নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্যাম্পে নেওয়ার কাজটি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল এবং এখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান রবিবার এক অনুষ্ঠানে এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো স্পষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সাংবাদিকদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া স্বাধীনমাধ্যমের জন্য মধ্যযুগীয় সহিংসতার সমতুল্য এবং তা অগ্রহণযোগ্য।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি কোনো সংবাদে আপত্তি থাকে তবে তা সমাধানের জন্য নির্ধারিত আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক প্রশ্ন করা নয়। যদিও পরে সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে তাদের অফিসে ফেরত পাঠানো হয়, তবু এই কাজটি পুরো গণমাধ্যমের ওপর ভয় দেখানোর একটি কঠোর বার্তা হিসেবে ধরা পড়ে।

দুই পক্ষের মন্তব্যের পরও, মিডিয়া সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে এবং সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। স্বাধীনমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক আলোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন।

সেনাবাহিনীর এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে দেশের প্রেসের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়ায় যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং সাংবাদিকদের কাজের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা।

এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বিরোধ সমাধানের জন্য আইনগত কাঠামো ব্যবহার করা উচিত, জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটাতে সরকার, সেনাবাহিনী ও মিডিয়া সংস্থার মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর আঘাত না লাগে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments