17 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচন কমিশনে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অভিযোগ দায়ের

জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচন কমিশনে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অভিযোগ দায়ের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জামায়াত-এ-ইসলামি রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রশাসনের কিছু অংশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধরেছে। দলটি দাবি করেছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। দলটি লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি মৌখিকভাবে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মতে, দলটি পূর্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। তবে, দলটি জানায় যে, এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে অভিযোগের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

জামায়াত-এ-ইসলামি উল্লেখ করেছে যে, বিভিন্ন জেলায় তাদের নারী কর্মীদের ওপর হেনস্থা, দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর দ্বারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ ও হেনস্তা ঘটছে বলে দলটি জানিয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা ইসিকে বলেছি, এই বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকি করা দরকার। প্রশাসনের একটি অংশ বিভিন্ন জায়গায় একদিকে হেলে পড়ছে। বিশেষ করে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের আর কয়েক দিন বাকি থাকায় এমন আচরণ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

পটুয়াখালীর বাউফল আসনে, জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ চরম পক্ষপাত দেখাচ্ছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে। স্থানীয় ওসির (অফিসার ইন চার্জ) সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জামায়াতের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে গেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে। দলটি ওসির প্রত্যাহার এবং তার পরিবর্তে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।

পাবনায়ও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে; স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট দলীয় কর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন বলে দলটি অভিযোগ করেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

জামায়াত-এ-ইসলামি উল্লেখ করেছে যে, অভিযোগের পরেও কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে দলটির উদ্বেগ বাড়ছে। তারা নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে যে, অভিযোগিত সকল বিষয়ের ওপর তৎক্ষণাৎ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ থাকে।

নির্বাচনের দিনগুলো নিকটবর্তী হওয়ায়, দলটি সতর্ক করেছে যে, যদি প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ অব্যাহত থাকে, তবে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে দলটি দাবি করছে যে, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments