শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আজ আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য দল গঠন সংশোধন করে, প্রমোদ মাদুশানকে ইশান মালিঙ্গার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইশান মালিঙ্গা ১ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাঁধের আঘাত পেয়ে খেলায় অংশ নিতে অক্ষম ঘোষণা করা হয়। ম্যাচের শেষ ওভারে বোলারটি হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন এবং পরে মেডিক্যাল টিমের মূল্যায়নে শারীরিক ক্ষতি নিশ্চিত হয়। ফলস্বরূপ, দলীয় চিকিৎসা বিভাগ তাকে অবিলম্বে বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের জন্য আলাদা করে।
চিকিৎসা দল মালিঙ্গার আঘাতের তীব্রতা বিবেচনা করে তাকে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রীলঙ্কা পরিচালনা কমিটি দ্রুত বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু করে, যাতে বলিং বিভাগে ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রমোদ মাদুশান, ২৪ বছর বয়সী মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার, পূর্বে ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে দলীয় ব্যবস্থাপনা তাকে একই ধরণের খেলোয়াড় হিসেবে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ইশান মালিঙ্গার শূন্যস্থান পূরণ হয়। মাদুশানকে এখন দলীয় তালিকায় লাইক-ফর-লাইক বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মাদুশান টি২০ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আটটি ম্যাচে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসেছে। এই আটটি ম্যাচে তিনি মোট বারোটি উইকেট নেয়া সত্ত্বেও গড় অর্থনীতি ৮.৬৩ রান প্রতি ওভার রেকর্ড করেছেন। তার গতি ও লাইন-এন্ড-লেংথ নিয়ন্ত্রণকে দলীয় বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।
মাদুশান প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা দলের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সিরিজে উপস্থিত ছিলেন, তবে স্কোয়াডে থেকে মুক্তি পেয়ে পরে পুনরায় ডাকা হয়েছে। তিনি সেই সিরিজে কিছু ওভার বোলিং করে দলের কৌশলগত বিকল্প হিসেবে কাজ করেছেন। তার পুনরায় অন্তর্ভুক্তি দলকে অতিরিক্ত বোলিং বিকল্প প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা দলের বর্তমান তালিকায় মাদুশানকে ইশান মালিঙ্গার সরাসরি বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে বলিং বিভাগে সামান্য পরিবর্তন ঘটবে। এই পরিবর্তনটি টিমের ব্যালেন্স বজায় রাখতে এবং শীর্ষ স্তরের প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় সহায়তা করবে। কোচিং স্টাফ বলছেন, মাদুশানের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে নির্ধারিত, এবং মাদুশানকে সেই ম্যাচে খেলোয়াড় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা অন্যান্য দলকে মুখোমুখি হবে, যা তার পারফরম্যান্সের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব আরোপ করবে। ভক্তরা এখন মাদুশানের পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখবে, বিশেষ করে শীর্ষ স্তরের টুর্নামেন্টে তার ভূমিকা কীভাবে গড়ে ওঠে তা দেখতে।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা দলকে গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে, যার মধ্যে একটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, অন্যটিতে অন্য কোনো দল এবং শেষ ম্যাচে আবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হতে পারে। এই ধারাবাহিকতা মাদুশানের জন্য ধারাবাহিক বোলিং সুযোগ তৈরি করবে।
দলীয় কোচের মতে, নতুন বোলারকে দ্রুত ম্যাচের শর্তে মানিয়ে নিতে হবে, তবে তার গতিশীলতা ও লাইন-এন্ড-লেংথ নিয়ন্ত্রণ দলকে সহায়তা করবে। কোচ আরও উল্লেখ করেছেন, মাদুশানের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি তাকে উচ্চ চাপের মুহূর্তে স্থিতিশীল রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, মাদুশান দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রীলঙ্কা ভক্তরা এখন মাদুশানের পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখবে, বিশেষ করে শীর্ষ স্তরের টুর্নামেন্টে তার ভূমিকা কীভাবে গড়ে ওঠে তা দেখতে। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের মন্তব্যে দেখা যায়, তারা নতুন বোলারকে সমর্থন জানিয়ে তার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
দলীয় ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত স্কোয়াড রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, যাতে মাদুশানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হয়। এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মাদুশান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় স্বীকৃত হবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই সাম্প্রতিক পরিবর্তন টুর্নামেন্টের অগ্রগতি এবং দলের পারফরম্যান্সের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে দলটি বলিং বিভাগে বিকল্প নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



