সান ফ্রান্সিসকোতে শনিবার একটি ছোটো প্রতিবাদী সমাবেশে ক্যালিফোর্নিয়ার বিলিয়নিয়ারদের সমর্থন জানাতে একদল মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এই মার্চের মূল উদ্দেশ্য হল প্রস্তাবিত “বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইন”ের বিরোধিতা করা, যা এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদধারী ব্যক্তিদের উপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা করে। সংগঠক ডেরিক কফম্যানের মতে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে প্রায় ত্রিশজনের কাছাকাছি হয়।
সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল অনুসারে, মার্চে প্রায় ত্রিশজন অংশগ্রহণকারী এবং অতিরিক্ত বারোজন ব্যঙ্গাত্মক বিরোধী প্রতিবাদকারী উপস্থিত ছিলেন। কফম্যানের পূর্বাভাস অনুযায়ী অংশগ্রহণের সংখ্যা সীমিত ছিল, তবে সামাজিক মাধ্যমে এই সমাবেশের অস্বাভাবিক ধারণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সংখ্যা অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে বেশি ছিল, যা সমাবেশের দৃশ্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।
মার্চে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সাইন হাতে ধরে ছিলেন, যার মধ্যে “আমরা জেফ্রি বেজোসকে ভালোবাসি” এবং “একটি সাইনেই সূক্ষ্ম যুক্তি প্রকাশ করা কঠিন” ইত্যাদি বাক্যাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সাইনগুলো ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বিলিয়নিয়ারদের প্রতি সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি ট্যাক্স প্রস্তাবের জটিলতা তুলে ধরেছে। যদিও সাইনগুলো হাস্যরসাত্মক ছিল, তবে মূল বার্তা স্পষ্ট: বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইনকে অগ্রাহ্য করা উচিত।
বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইনটি ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটে আনা হবে এমন একটি ব্যালট মেজার, যার অধীনে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদধারী ব্যক্তিদের মোট সম্পদের উপর ৫ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রস্তাবটি রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি পূরণের জন্য উপস্থাপিত হয়েছে, তবে সমালোচকরা এটিকে ধনী শ্রেণীর উপর অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখছেন। গ্যাভিন নিউসম, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর, এই মেজারটি পাস হলে তিনি তা ভেটো করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা আইনটি বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ডেরিক কফম্যান, যিনি এআই স্টার্টআপ রানআরএল-এর প্রতিষ্ঠাতা, নিজে বিলিয়নিয়ার নয়, তবু এই সমাবেশের আয়োজক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির একটি দিক নিয়ে মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে এই রাজ্যই একমাত্র যেখানে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রদান করা হয়। তিনি এই নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলছেন যে সম্ভবত এই ধরনের সেবা প্রদান করা উচিত নয়।
কফম্যানের এই মন্তব্যের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের চৌদ্দটি রাজ্য রয়েছে, যেগুলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এই তথ্যটি ক্যালিফোর্নিয়ার নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও কর নীতি দুটোই সামাজিক ন্যায়বিচার ও আর্থিক ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় খোঁজার বিষয়।
মার্চের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইনটি ভোটে কী ফলাফল দেবে তা এখনও অনিশ্চিত। যদি মেজারটি ভোটে পাস হয়, তবে নিউসমের ভেটো সম্ভাবনা এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য সংশোধন আইনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে। অন্যদিকে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সীমিত হলেও, সামাজিক মাধ্যমে তাদের বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে এই ধরনের নীতি নিয়ে জনমত গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সান ফ্রান্সিসকোর এই ছোটো মার্চটি ক্যালিফোর্নিয়ার কর নীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিতর্কের একটি মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম, তবে তাদের প্রকাশিত বার্তা এবং মিডিয়ার দৃষ্টিগোচরতা এই বিষয়গুলোকে রাজ্যব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল এবং গভর্নরের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আর্থিক নীতির দিকনির্দেশনা।



