ড. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) স্থায়ী কমিটির সদস্য, রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত জাসদ‑আধারিত র্যালিতে নির্বাচনের পরাজয়কে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযুক্ত করার প্রবণতা থেকে সরে আসতে দেশজুড়ে আহ্বান জানালেন। তিনি জাসদের ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরীর সমর্থনে সংগঠিত সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ভোটের জন্যও আবেদন করেন।
ড. হোসেন উল্লেখ করেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার, তবে ফলাফল না পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রূপান্তরিত করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এই ধরনের রূপকথা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তি থেকে দালালি করা, অথবা বিদেশি পক্ষকে আমাদের সমস্যার সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।
ড. হোসেন একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কোনো নোবেল বিজয়ী যদি নিজের দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার আহ্বান জানায়, তবে তা দেশের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে এবং এমন পরিবেশকে রোধ করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে না থাকায় দেশের স্বার্থ রক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্রতা প্রকাশ করা, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনের বিরুদ্ধে তৎপরতা করা, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক দেশের দালাল হয়ে অন্য দেশের স্বার্থে কাজ করা জাতির সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে এবং দেশের মর্যাদা হ্রাস করে।
এ প্রসঙ্গে ড. হোসেন জাসদের সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের দেশপ্রেমিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং যোগ্য প্রার্থীদেরই নির্বাচিত হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের দখল, ব্যালট বাক্সে সিল মারার প্রথা এবং ভুয়া ভোটের ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ড. হোসেনের বক্তব্যে অতীতের কিছু কায়দা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ভোটকেন্দ্র দখল করে বা ব্যালট বাক্সে সিল দিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের অনুশীলন বন্ধ করে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত দুজনের মৃত্যু ইতিমধ্যে ঘটেছে এবং আর কোনো হত্যাকাণ্ড না ঘটলে নির্বাচনের বৈধতা বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো অতিরিক্ত হত্যাকাণ্ড ঘটে তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হবে।
র্যালিতে জাসদের ঢাকা মহানগরের নেতা মহিউদ্দিন, প্রার্থী ইসমাইল চৌধুরী এবং অন্যান্য দলের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের শেষে ড. হোসেন উপস্থিত সবাইকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
ড. হোসেনের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জাসদের এই ধরনের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি পার্টির ভিতরে এবং বহির্ভাগে সমর্থন গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যে ‘ষড়যন্ত্র’ সংস্কৃতি সত্যিই শেষ হবে নাকি না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় সকল রাজনৈতিক দলকে স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং নির্ভীক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করা জরুরি, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়সঙ্গত শাসনের উদাহরণ দেখানো যায়।



