এনএফএল আগামী সুপার বোলের প্রধান বিজ্ঞাপনটিকে সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে চলেছে। এই বছর লিগের ব্র্যান্ড স্পটের কেন্দ্রে থাকবে যুব কোচ এবং তাদের প্রশিক্ষণরত শিশুরা, আর কোনো সেলিব্রিটি বা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি থাকবে না।
বিজ্ঞাপনটি ৬০ সেকেন্ডের একটি চলচ্চিত্র, শিরোনাম “Champion”। এতে দেখা যায় একটি ছোট ছেলে নিজের ঘরে খেলনা গুলোর সামনে আত্মবিশ্বাসের কথা বলছে, যেন কোচের মতো তাদের উৎসাহ দিচ্ছে। এই দৃশ্যটি যুব কোচের মেন্টরশিপের শক্তিকে তুলে ধরতে পরিকল্পিত।
এনএফএল প্রতি বছর সুপার বোলের সময় নিজের বিজ্ঞাপনের জন্য কয়েক মিনিটের সময় বরাদ্দ করে, যা নেটওয়ার্ক পার্টনারদের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি হয়। ঐ সময়ে লিগ সাধারণত তার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বা দৃষ্টিভঙ্গি জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করে।
গত বছর লিগের বিজ্ঞাপনটি মেয়েদের ফ্ল্যাগ ফুটবলের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যেখানে তরুণী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের স্পটটি লিগের আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যকে তুলে ধরেছিল। এই দুইটি উদাহরণই দেখায় যে এনএফএল তার বিজ্ঞাপনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন থিমে আলোকপাত করে।
পূর্বের সুপার বোল বিজ্ঞাপনগুলোতে প্যাট ম্যাকাফি, সাকুয়ন বার্কলি এবং জাস্টিন জেফারসনসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ছিল। তাদের উপস্থিতি লিগের খেলোয়াড়দের মুখোমুখি করে ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করত। তবে এই বছর লিগের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেখানে কোনো খেলোয়াড়ের নাম বা মুখ দেখা যাবে না।
বিজ্ঞাপনটিতে প্রধান চরিত্র হবে শিশুরা, তাদের কোচ এবং কিছু পরিচিত অ্যাকশন ফিগার। এই পদ্ধতি লিগকে যুব কোচিংয়ের মূল ভূমিকা তুলে ধরতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
টিম এলিস, নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার, এই কৌশলগত পরিবর্তন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুব কোচরা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, চরিত্র এবং স্ব-বিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই বিজ্ঞাপনের মূল থিমকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় ছিল না।
এলিসের মতে, কোচদের মেন্টরশিপের শক্তি এমন একটি গল্প তৈরি করে যা স্বাভাবিকভাবে সেলিব্রিটি ব্যবহার করে তৈরি করা বিজ্ঞাপনের তুলনায় বেশি প্রামাণিক। তিনি আরও বলেন, লিগের খেলোয়াড়রা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই মুহূর্তে সৃজনশীল ধারণার স্বচ্ছন্দে তাদের উপস্থিতি বাধা সৃষ্টি করত। তাই লিগ সম্পূর্ণভাবে কোচ এবং শিশুর ওপর ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজারে সাধারণত সুপার বোলের বিজ্ঞাপনে সেলিব্রিটি না ব্যবহারকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়, কারণ তার মাধ্যমে দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। তবু এনএফএল এই ঝুঁকি গ্রহণ করে, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে ধারণার সত্যিকারের শক্তি এবং তার প্রামাণিকতা দর্শকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংযোগ গড়ে তুলবে।
এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লিগের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞাপন কৌশলের ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুব কোচিংয়ের গুরুত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার মাধ্যমে এনএফএল তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। পরবর্তী বছরগুলিতে এই থিমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লিগের ব্র্যান্ডিং আরও শক্তিশালী হবে।
সুপার বোলের এই বিজ্ঞাপনটি এনএফএলকে শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজক নয়, বরং যুব কোচিং এবং মেন্টরশিপের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করবে। দর্শকরা যখন এই ৬০ সেকেন্ডের গল্প দেখবে, তখন তারা কোচের ভূমিকা এবং শিশুর আত্মবিশ্বাসের উত্থানকে সরাসরি অনুভব করবে, যা লিগের সামাজিক দায়িত্বের নতুন দিককে উন্মোচন করবে।



