18 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক যুবকের মৃত্যু ও পরিবারের প্রতিবাদ

মাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক যুবকের মৃত্যু ও পরিবারের প্রতিবাদ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় শনিবার ভোরে যৌথ বাহিনীর একটি অভিযানে ২৯ বছর বয়সী রাসেল কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিটি ঢাকা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন এবং তার পরিবার গ্রামেই বসবাস করছিল।

গ্রেফতারকারী দলটি মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত, যারা রাতের অল্পই রাসেলকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতের স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামেই থাকলেও তার তিনজন বড় ভাই ঢাকা শহরে বাস করতেন।

গ্রেফতারকৃতের মৃত্যু সম্পর্কে পরিবারটি শনিবার রাতেই জানে। পরিবার জানায় যে, রাসেল কাজী গ্রেফতারকৃত হওয়ার পর কোনো সময়ই হাসপাতালে পৌঁছায়নি এবং রাতের শেষের দিকে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজন রোববার বিকেলে রাসেল কাজীর বাড়ির সামনে মানববন্ধন গঠন করে প্রতিবাদ করে। তারা দাবি করে যে, মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তি চায়।

রাসেল কাজীর বড় ভাই হাশেম কাজী জানান যে, গ্রেফতারকালে তার ভাইকে গাছে বেঁধে পিটানো হয় এবং মাঠে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাকে মুলাদী ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে ঘটনাটি অস্বীকার করা হয়। হাশেমের মতে, ক্যাম্পের ওসিরা তাকে ফোন করে লাশটি ক্যাম্পে পাঠাতে বলেছিল এবং ১ লক্ষ টাকা অফার করেছিল, তবে তিনি ময়নাতদন্তের শর্তে লাশ নিতে অস্বীকার করেন।

হাশেম কাজী আরও জানান যে, কালকিনি থানার ওসিরা লাশের জন্য অর্থ প্রদান করে, কিন্তু ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে লাশটি মুলাদী ক্যাম্প ও পুলিশের হস্তে পাঠানো হয়। পরিবার এখন লাশের ময়নাতদন্তের দাবি করে এবং কোনো রকম দায়িত্ব স্বীকারের প্রত্যাশা করে না।

কালকিনি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আশফানুল হক বলেন, “উত্তর আন্ডারচরের ঘটনা মুলাদী ক্যাম্পের অপারেশন। আমাদের ক্যাম্পে এক লাশ আনা হয়েছিল, কারণ মুলাদী ক্যাম্প আমাদের পার্শ্ববর্তী। আমরা লাশটি পরিবারের কাছে দিতে চেয়েছিলাম, যাতে আর কোনো ঝামেলা না হয়। তবে পরিবার ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই লাশটি মুলাদী ক্যাম্প ও পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের এতে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” তিনি এ কথায় ক্যাম্পের ভূমিকা স্পষ্ট করে জানান।

মুলাদী সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোনে জানান যে, তিনি কলটি গ্রহণ করবেন এবং পরে ফিরে কল দেবেন। তবে ৩০ মিনিটের মধ্যে একাধিকবার কল করা সত্ত্বেও তিনি উত্তর দেননি।

স্থানীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তদন্ত এখনো চলমান। পরিবার লাশের ময়নাতদন্তের অধিকার দাবি করে এবং গ্রেফতারকালে নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্তের ত্বরান্বিত হওয়ার আহ্বান জানায়। সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের কর্মকর্তারা ঘটনাটির দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও, পরিবার ও প্রতিবাদকারীরা ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা চেয়ে দাবি বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি, গ্রেফতার প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের দিক থেকে তদন্তকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, রাসেল কাজীর মৃত্যুর ঘটনা মাদারীপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর প্রশ্ন তুলেছে এবং পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার দাবি বাড়িয়ে দিয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments