বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ সব ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি‑টু‑পি) টাকা পাঠানোর সেবা বন্ধ রাখবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় ডিজিটাল লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করা। বন্ধের সময়কাল চার দিন, যা মোট ৯৬ ঘণ্টা বিস্তৃত।
বন্ধের সূচনা রাত ১২টায় হবে এবং শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১:৫৯ মিনিটে। বন্ধের সময়কালে কোনো পি‑টু‑পি লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে না, ফলে ব্যবহারকারীরা নগদ বা বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। এই ব্যবস্থা পুরো দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কে সাময়িকভাবে সীমা আরোপ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট‑১ এই নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমএফএস ও এনপিএসবি’র আওতাধীন আইবিএফটি (ইন্টার‑ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার) সেবায় সীমা নির্ধারণ করা হবে। সীমা নির্ধারণের সময়কাল হবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত, মোট ৯৬ ঘণ্টা।
এই সময়ে আইবিএফটি মাধ্যমে করা লেনদেনের পরিমাণ ও ফ্রিকোয়েন্সি সীমাবদ্ধ থাকবে, যাতে বড় আকারের বা সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা যায়। সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি কমানো লক্ষ্য। একই সঙ্গে, ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারীরা অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রতিটি এমএফএস প্রদানকারীকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে বলা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের সময় গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা যায়। এই সেলগুলো অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক বিশ্লেষণ এবং সমাধান প্রক্রিয়ার সমন্বয় করবে।
সেবার বন্ধ ও সীমা আরোপের সময় সব ধরনের লেনদেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি‑টু‑পি লেনদেনের সম্পূর্ণ বন্ধের ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিমাণে তীব্র হ্রাস প্রত্যাশিত। গ্রাহকরা নগদ উত্তোলন, এজেন্ট পেমেন্ট এবং শাখা ভিত্তিক লেনদেনে রূপান্তরিত হবে। ফলে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এটিএম ও শাখা সেবার চাহিদা বাড়বে।
ব্যাংকগুলো লেনদেন ফি ও পরিষেবা চার্জের আয় হ্রাসের মুখোমুখি হবে, কারণ ইন্টারনেট ব্যাংকিং থেকে প্রাপ্ত আয় এই সময়ে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে, এমএফএস প্রদানকারীরাও লেনদেন সীমাবদ্ধতার ফলে আয় কমতে পারে। তবে, নগদ লেনদেনের বৃদ্ধি তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের চাহিদা তৈরি করবে।
ডিজিটাল লেনদেনের হ্রাসের ফলে শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও ফিনটেক সংস্থার স্টক মূল্যে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচনের পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তরলতা বজায় রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
গ্রাহকদের জন্য নগদ লেনদেনের বাড়তি চাহিদা ব্যাংক শাখা ও এটিএমের লাইন দীর্ঘায়িত করতে পারে, ফলে সেবা সময়ে বিলম্বের সম্ভাবনা থাকে। ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ক্যাশ রিসোর্স নিশ্চিত করতে এবং এটিএম রিলোডের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করতে পারে।
এমএফএস প্রদানকারী ও ব্যাংকগুলো নির্বাচনী কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে, যাতে সেবা বন্ধের সময় সুষ্ঠু যোগাযোগ নিশ্চিত হয়। এই সহযোগিতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সংক্ষেপে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি‑টু‑পি লেনদেনের চার দিনের বন্ধ ডিজিটাল পেমেন্টের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাবে এবং নগদ লেনদেনের চাহিদা বাড়াবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রদানকারীকে নগদ পরিচালনা ও গ্রাহক সেবার জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনের পর লেনদেন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এই সময়কালে আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্কতা প্রয়োজন।



