কানাডিয়ান সরকারকে প্রতিনিধিত্বকারী কানাডিয়ান হাই কমিশনার আজিত সিংহ ২ মিলিয়ন ডলার দান করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যবহার হবে। এই অর্থায়ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রদান করা হবে।
ঘোষণাটি ঢাকার আগারগাঁও-এ অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও চারজন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর করা হয়। সিংহ উল্লেখ করেন, এই সহায়তা নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে সমর্থন করবে।
সিংহ জোর দিয়ে বলেন, একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন যে কোনো গোষ্ঠীকে বাদ না দিয়ে পরিচালিত হওয়া দরকার। কানাডিয়ান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে, যার মধ্যে যুবক, নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম নির্বাচনগুলোর একটি হবে এবং এর ফলাফল কানাডা সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী নজরদারি থাকবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক সুনামকে প্রভাবিত করবে।
সিংহ জানান, শত শত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ভোটের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন, এবং কানাডি পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনে অংশগ্রহণ করছেন, যা একমাত্র দেশ হিসেবে গর্বের বিষয়।
তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, একটি সফল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাংলাদেশ‑কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
সিংহ শেষ কথা বলেন, এখনই বাংলাদেশিদের ওপর নির্ভর করে যে তারা এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নিজের হাতে নেবে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলারও কানাডিয়ান সরকারের এই সহায়তাকে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
এই দানটি কানাডার বিদ্যমান সহায়তা প্রকল্পগুলোর অংশ, যা শাসন, উন্নয়ন ও মানবাধিকার ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত।
নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে তহবিলটি ভোটার শিক্ষা, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য প্রবেশযোগ্যতা ব্যবস্থা এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে ব্যবহার করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্যরা নির্বাচনের পূর্বে দেশে পৌঁছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের কাজ করবেন।
এই ঘোষণার সময় বাংলাদেশ একটি তীব্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দেশব্যাপী সমর্থক সংগ্রহে ব্যস্ত।
আন্তর্জাতিক অংশীদাররা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছে, এবং কানাডিয়ান সরকারের এই অবদান দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।



