চট্টগ্রাম‑১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) আসনের নির্বাচনী র্যালি রবিবার বিকেল পাঁচটায় লোহাগাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বিএনপি মনোনীত নাজমুল মোস্তফা আমিনের সমর্থনে আয়োজন করা হয়েছিল এবং উপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল। র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
র্যালির সূচনা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে হয় এবং ফৌজুল কবিরের সঞ্চালনায় চলমান হয়। র্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সদস্য ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, সালাউদ্দিন চৌধুরী এবং অন্যান্য কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। নাজমুল মোস্তফা আমিনও সমাবেশে অংশ নেন এবং উপস্থিতদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন।
বক্তৃতার মাঝামাঝি আমীর খসরু বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী গোষ্ঠী বট বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, টিকিট বিক্রি এবং নাগরিকদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এইসব কার্যক্রমের পরিণতি হিসেবে এখন সিল ধরা পড়ছে, যা তিনি একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি সকল সমর্থককে সতর্ক থাকতে এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আহ্বান জানান।
বিএনপি’র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দলটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে এবং কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপস করে না। অন্য সব দলকে তিনি আপসের পথে হাঁটতে দেখেন, যেখানে বিএনপি শুধুমাত্র গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে অটল রয়েছে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সব নাগরিকের কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে এবং তা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করবে, এ ধরনের আশাবাদ তিনি প্রকাশ করেন। তিনি জোর দেন, বাংলাদেশ অগণতান্ত্রিক শক্তি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে না পড়ে, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। দেশের স্বার্থে যারা প্রথমে বিশ্বাস রেখেছেন, তাদেরই হাতে দেশের ভবিষ্যৎ থাকবে, এ কথায় তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি ১২ ডিসেম্বরের ভোটের দিনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখা তার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তিনি তুলে ধরেন। তিনি সকল সমর্থককে চোখ‑কান খোলা রাখতে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
র্যালিতে উপস্থিত অন্যান্য বিএনপি নেতারা আমীর খসরুর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। উদ্দিন চৌধুরী, ফৌজুল কবির এবং মুজিবুর রহমান সকলেই দলটির গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও ভোটের ফলাফল না আসা পর্যন্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বানকে সমর্থন করেন। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমাবেশ ভোটের আগে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দলটির নীতি‑প্রণালীর প্রতি আস্থা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, এই র্যালি এবং আমীর খসরুর ঘোষণার ফলে বিএনপি ভোটের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধের জন্য দলটি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী দিনগুলোতে কেন্দ্রগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ভোটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, লোহাগাড়া উপজেলার র্যালিতে আমীর খসরু ভোটের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য সকল সমর্থককে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। তিনি দলের নীতি‑প্রণালী, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



