গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আজ ক্যাবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে নয়জন সদস্যের একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করেছে, যার কাজ পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করা। প্যানেলটি সরকারী নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্যানেলের সদস্য সংখ্যা নয়, এবং এর প্রধান হিসেবে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়েছে। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্যানেলটি বিভিন্ন সংস্থার পূর্ববর্তী রিপোর্ট বিশ্লেষণ করবে, যাতে সুসংহত সুপারিশ তৈরি করা যায়।
প্যানেলটি তিনটি মূল কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে: জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ বিচার পরিষেবা বেতন কমিশন ২০২৫, এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কমিটি ২০২৫। এসব রিপোর্টের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও নীতি নির্ধারণ করা হবে।
এই পদক্ষেপটি আসে সরকারী কর্মচারীদের দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদীর পর, যেখানে তারা নবম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানায়। কর্মচারীরা কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে, যা সরকারের দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
কমিশনের শেষ মাসের রিপোর্টে ১৪ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন স্কেল গঠন করা হলে কর্মচারীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বার্ষিক টাকার প্রয়োজন হবে ১.০৬ লাখ কোটি টাকা, যা বর্তমান ১.৩১ লাখ কোটি টাকার বাজেটের উপরে। অর্থের এই অতিরিক্ত চাহিদা সরকারকে আর্থিক পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
ক্যাবিনেট বিভাগ নোটিফিকেশনে জানিয়েছে যে প্যানেলটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। রিপোর্টে সুপারিশের বিস্তারিত ও বাস্তবায়নের ধাপসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা পরবর্তী নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
অর্থ বিভাগ প্যানেলের জন্য প্রয়োজনীয় সেক্রেটারিয়াল সেবা প্রদান করবে এবং রিপোর্টের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। এই সহযোগিতা প্যানেলের কাজকে দ্রুত ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্য রাখে।
গত সপ্তাহে অর্থ উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, অস্থায়ী প্রশাসন নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, যদিও বাস্তবায়নের পূর্ণ দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে থাকবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।
প্যানেলের কাজ শেষ হলে সরকারকে নতুন বেতন স্কেল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা পরবর্তী বাজেট প্রণয়ন ও আর্থিক নীতিতে প্রভাব ফেলবে। কর্মচারী ও পেনশনভোগীর প্রত্যাশা পূরণে এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, এবং পরবর্তী নির্বাচনী পরিবেশে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।



