ঢাকা‑১৪-এ ন্যাশনাল বাংলা হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ভোটারদের ধর্মভিত্তিক বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ভোটে কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে হাতিয়ার করে ভোটারকে গুলিয়ে ফেলতে চায়।
তারেক রহমান র্যালিতে বলেন, ইতিমধ্যে তাদের পার্টির কিছু সদস্য নকল সিল তৈরি করতে ধরা পড়েছে। এছাড়া, মায়েরা ও বোনদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একটি পরোক্ষ ইঙ্গিতে তিনি জামাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই গোষ্ঠী পূর্বে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ‘ডিক্টেটরশিপ’ এর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে, যা ১৯৯০ সালের আন্দোলনের পরের সময়কালে ঘটেছিল। তিনি যোগ করেন, এমন গোষ্ঠী বহুবার জনগণকে একা ছেড়ে চলে গিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ভোটারদের আহ্বান করেন, যেন কেউই তাদের ভোটের অধিকার চুরি না করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো কল্পিত নির্বাচনে ভোটকে ফাঁদে ফেলা বা বাক্সে আটকে রাখা উচিত নয়।
তিনি আরও সতর্ক করেন, আজও কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন ভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোটারকে গুলিয়ে ফেলতে চায়। তাই ভোটারদের উচিত সতর্ক থাকা, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন না হয়।
তারেক রহমান র্যালিতে বিএনপি-র ধারা‑১৪ প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি-কে সমর্থন জানিয়ে, তাকে অত্যাচার ও গৃহবধের বিরুদ্ধে লড়াইকারী যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেন। তুলি মা’এর ডাক (মায়ের ডাক) প্ল্যাটফর্মের মূল সমন্বয়কারী এবং হারিয়ে যাওয়া বিএনপি নেতার বোন।
তিনি তুলি-কে ‘ধানের গাঁথা’ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি গত ১৬ বছর ধরে এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। তুলি-র প্রচেষ্টার ফলে বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কষ্ট পেয়েছে।
তারেক রহমান তুলি-র কাজের প্রশংসা করে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন; তাদের ত্যাগকে বৃথা না যেতে দেওয়া দরকার। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এই ত্যাগের সঠিক সম্মান হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গত ১৬ বছর ধরে দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা না থাকায় মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ হয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তন না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হবে।
ভবিষ্যতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। তাই ভোটারদের উচিত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করা।
র্যালির শেষে তিনি ভোটারদের আহ্বান করেন, যেন তারা কোনো ধরনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের ফাঁদে না পড়ে, এবং নিজের ভোটের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখে।



