গোল্ডেন গার্ডেন লেক পার্কে গুলশান সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “মহিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা” শীর্ষক আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্ত্রী জুবাইদা রহমান আজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দল সরকারে আসলে দেশের নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে মাস্টার্স স্তর পর্যন্ত সুযোগ প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিশ্রুতি নারীর নিরাপত্তা, সুরক্ষিত বাসস্থান, নিরাপদ পরিবহন এবং কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, যাতে প্রতিটি মা কাজের জায়গায় শান্তি পায়।
জুবাইদা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারেন্ট মেইনটেন্যান্স আইনকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে, যাতে সন্তান পালনকারী মা-দের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে নারীর কর্মসংস্থান ও সামাজিক অবস্থান উভয়ই উন্নত হবে।
আলোচনার পরবর্তী অংশে তিনি নারী সমর্থন সেল গঠন করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই সেলটি নারীর ক্ষমতায়ন ও আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য রাখবে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গার্মেন্টস কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে যাতায়াতে তারা যে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। জুবাইদা বলেন, গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সন্তান জন্মের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও যত্ন পায়। এই পদক্ষেপটি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নারীর ক্ষমতায়নকে জাতীয় অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে জুবাইদা উল্লেখ করেন, কারণ বাংলাদেশে নারীর জনসংখ্যা ৫১ শতাংশ, যা দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, নারী অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হতে পারে না এবং তাই সরকারী নীতি ও প্রোগ্রামগুলোতে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও তিনি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন; প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদ ডেলিভারি সিস্টেম স্থাপন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা প্রদান করা হবে। জুবাইদা বলেন, এই ব্যবস্থা গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একজন গরিব মেয়ের গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন মেয়েরা প্রায়ই বাল্যবিবাহের হুমকির মুখে থাকে এবং তাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হয়। জুবাইদা জোর দিয়ে বলেন, সরকার এমন মেয়েদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে তারা শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার পথে অগ্রসর হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাজ করা নারী ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তিকর ও অন্যায় আচরণের শিকার হয় এবং নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা তাদের মৌলিক অধিকার।
বিএনপির এই পরিকল্পনা দেশের বর্তমান শাসক দলের (আওয়ামী লীগ) নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারও নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ চালু করেছে। তবে জুবাইদা উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারে আসলে এইসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট নীতি ও তহবিলের ব্যবস্থা করবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতকে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।



