ভোলা-১ (সদর) আসনের বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি‑বিজেপি (বিএনপি‑বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ রোববার দুপুরে ভোলা সদর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে ১৭ বছরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছরে ভোলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্যের অভাবের ফলে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অবিচার চালাতে সক্ষম হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা পার্থের বক্তব্য শোনার পর প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তিনি নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করবেন। পার্থ উত্তর দেন, তার পরিবারে কোনো ব্যবসা বা টেন্ডার সংক্রান্ত কোনো লেনদেন নেই, তাই তিনি স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন এবং ভোলায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করবেন।
পার্থের মতে, যদি তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেন, তবে ব্যবসায়ীরা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি প্রতিবাদ না করা হয়, তবে একদিনের বাজারের ব্যবসায়ীর ওপর অন্যায় চলতে থাকবে, আর পরের দিন অন্য বাজারের ব্যবসায়ীর ওপর একই রকম অবিচার হতে পারে। ঐক্যের অভাবই অতীতের অনিয়মের মূল কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নের কথা বলার সময় পার্থ স্বীকার করেন, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টের কাজ সরকারী উদ্যোগে সম্পন্ন হবে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন ব্যবসায়ী মাসে এক লক্ষ টাকা আয় করলেও যদি তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়, তবে তার মুনাফা নষ্ট হয়ে যায়।
অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে পার্থ সকল ব্যবসায়ীকে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। তিনি দৌলতখান, বোরহানির, লালমোহন ও চরফ্যাশন বাজারে যদি কোনো ধরনের অন্যায় ঘটে, তবে সবার মিলিত হয়ে সাড়া দিতে হবে, এমনটি উল্লেখ করেন।
সভায় জেলা বিএনপি সদস্য সচিব রাইসুল আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউর রহমান কিরন, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, তরিকুল ইসলাম কায়েদ এবং আব্দুর রব আকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা পার্থের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
পার্থের মন্তব্যের ভিত্তিতে তিনি ভবিষ্যতে ভোলার বাজারগুলোতে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ না করে স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
অধিকন্তু, পার্থের মতে, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত বাজার গঠনে নির্ভরশীল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি নিরাপদে কাজ করতে পারে, তবে বিনিয়োগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিপরীত দিক থেকে, পার্থের মন্তব্যের প্রতি কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে সন্দেহের সুরও শোনা যায়। তারা জোর দেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নকেই মাপকাঠি হিসেবে দেখতে হবে। তবে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী পার্থের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সামগ্রিকভাবে, পার্থের বক্তব্য ভোলার ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা নির্দেশ করে। তিনি ঐক্যের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অবিচার মোকাবেলা করার আহ্বান জানান এবং স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতি দেন।
এই মতবিনিময় সভা ভোলার ব্যবসায়িক পরিবেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্থের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।



