ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এবং নেপাল দলের মধ্যে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সি প্রথম ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড ১৮৪ রানের লক্ষ্য স্থাপন করে ৭ উইকেটের সঙ্গে রেকর্ড করে, আর নেপাল ১৮০ রানে শেষ হয়ে চার রান কমে হারের মুখে পড়ে। শেষ ওভারে সাম কার্রান ১০ রান রক্ষা করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
ইংল্যান্ডের টস জিতে ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া সত্ত্বেও, দলটি শুরুর দিকে সমস্যায় পড়ে। সপ্তম ওভারে ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ৭৩/৩ অবস্থায় পৌঁছায়। শের মল্লা তার বিশ্বকাপ ডেবিতে প্রথম বলেই ফিল সল্টকে এক রান করে আউট করেন, যা ইংল্যান্ডের উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। জোস বাটলার এবং টম ব্যান্টন দ্রুত পরপর আউট হয়ে দলকে আরও সংকটে ফেলে।
যৌবন ব্যাটসম্যান জ্যাকব বেটহেল টার্নের শর্তে দ্রুতই রিদম খুঁজে নেন। তিনি এবং হ্যারি ব্রুক ৪৫ বলের মধ্যে ৭১ রান যোগ করে দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। বেটহেল ২৮ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন, যেখানে তিনি কুশল ভূর্তেলকে ধারাবাহিক দুইটি ছয় মারার পর লেগ স্পিনারকে আউট করেন। ব্রুকের অর্ধশতক নন্দন যাদবের শটের পরে দ্রুত শেষ হয়, তবে তিনি একটি স্কিয়ার ক্যাচ দিয়ে দলকে ছেড়ে যান।
ইংল্যান্ডের শেষের দিকে উইল জ্যাক্সের অবিনশ্বর ৩৯ রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ১৮ বলে চারটি ছয় মারেন, যার মধ্যে তিনটি শেষ ওভার থেকে কারন ছেত্রীর ডেলিভারিতে আসে। এই আক্রমণাত্মক শেষের ফলে ইংল্যান্ডের স্কোর ১৮৪/৭ এ পৌঁছায়।
নেপাল যখন শুটিং শুরু করে, তখন ওপেনার কুশল ভূর্তেল ২৯ রান নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। তিনি চারটি চৌকো এবং একটি ছয় মারার পর জ্যাক্সের ডেলিভারিতে আউট হন। ডিপেন্দ্র সিং আইরি (৪৪) এবং ক্যাপ্টেন রোহিত পাউডেল (৩৯) ৫৪ বলে ৮২ রান যোগ করে নেপালের শিকড়কে দৃঢ় করেন। তবে সাম কার্রান আইরিকে ডিপে ক্যাচে এবং পাউডেলকে দ্রুত আউট করে তাদের অগ্রগতি থামিয়ে দেন।
শেষ ওভারে নেপালের লোকেশ বাম ২০ বলে ৩৯* রান করে দলকে আশার দিকে নিয়ে যান। তিনি জোফ্রা আর্চারকে ধারাবাহিক দুইটি ছয় দিয়ে স্কোরকে উল্টে দেন। তবে শেষ ওভারে নেপালকে ১০ রান দরকার, এবং সাম কার্রান ১০ রান রক্ষা করে শেষ করেন। বামের শেষ শটগুলোতে ছয় না পেয়ে নেপাল ১৮০/৬ স্কোরে শেষ হয়ে চার রান কমে পরাজিত হয়।
ইংল্যান্ডের এই জয় তাদের গ্রুপ সি শুরুর জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়, আর নেপালকে প্রথম ম্যাচে অল্প পার্থক্যে হারতে হয়। পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া, আর নেপালকে অপেক্ষা করছে শ্রীলঙ্কা। উভয় দলই টুর্নামেন্টের বাকি পর্যায়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে প্রস্তুত।



