বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামির আমীর শাফিকুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য ১১‑সংখ্যা জোটের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র রক্ষার আহ্বান জানিয়ে এক বিশাল সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। তিনি মেরুল বাদ্দার ডিআইটি প্রকল্পের মাঠে অনুষ্ঠিত র্যালিতে জোটের প্রার্থী সাহিদুল ইসলাম (নাহিদ ইসলাম)কে সমর্থন জানিয়ে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
র্যালির শুরুতে শাফিকুর রহমান জোর দিয়ে বললেন, “যেমনই জুলাইয়ের নির্বাচনে আপনারা সাহসিকতার সাথে রক্ষা করেছেন, তেমনি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র রক্ষা করা জরুরি, যাতে জুলাইয়ের ফলাফল সফল হয়।” তিনি ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ফলাফল নষ্ট হবে বলে সতর্ক করেন।
শাফিকুরের মতে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) কনভিনার সাহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হলে অবশ্যই মন্ত্রিপদে নিযুক্ত হবেন। এই প্রতিশ্রুতি তিনি র্যালির অংশগ্রহণকারীদের সামনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যা জোটের ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
আলোচনার ধারায় শাফিকুর বললেন, “আমরা দেশের ৫৬,০০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষা করব, শুধু ঢাকা‑১১ নয়।” তিনি দেশের সমগ্র জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে, ভোটের মাধ্যমে সমগ্র জাতির স্বার্থ রক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শাফিকুর আরও উল্লেখ করেন, পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের দিক পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। তিনি দেশের উন্নয়নের পথ সুগম করার জন্য পাঁচ বছর যথেষ্ট সময় বলে আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অগ্রগামী পথে চালিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
নেতা জোর দিয়ে বলেন, তাদের শাসনে কোনো সামাজিক অবৈধতা সহ্য করা হবে না এবং ন্যায়বিচার সমানভাবে সকলের ওপর প্রয়োগ হবে, সাধারণ নাগরিক থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পর্যন্ত। এই নীতি অনুসরণে তিনি সকল ধরণের দুর্নীতি ও শোষণকে কঠোরভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শাফিকুরের বক্তব্যে উল্লেখ আছে, “আল্লাহকে সাক্ষী হিসেবে আমরা দেশের জীবন, সম্পদ ও গৌরব রক্ষা করব,” যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জোটের নেতৃত্বে জনগণের স্বার্থ রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেন।
র্যালিতে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, “দুর্নীতিগ্রস্ত, জবরদস্তি করা ও জমি দখলকারী প্রার্থীদের ভোটে বাদ দিন।” তিনি ভোটারদের ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সতর্ক করেন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।
শাফিকুর উল্লেখ করেন, “আগস্ট ৬ তারিখের সকাল থেকে শুরু হওয়া অতিরিক্ত জবরদস্তি, জমি দখল ও মুনাফা অর্জনের ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে,” এবং কোনো দলকে নাম না তুলে এই সমস্যাগুলোকে সমালোচনা করেন। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে চান।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “কেন ৫৯ জন পরিচিত ঋণ ডিফল্টকারী ও ব্যাংক লুটের অভিযোগে অভিযুক্তদের পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন করা হয়েছে?” শাফিকুরের মতে, এ ধরনের প্রার্থীদের সংসদে আনা দুর্নীতি মোকাবেলায় ব্যর্থতা নির্দেশ করে এবং তিনি এ বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
শাফিকুরের শেষ মন্তব্যে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, “আপনার ভোটই দেশের দিক নির্ধারণ করবে, তাই দায়িত্বশীলভাবে ভোট দিন।” এই আহ্বান জোটের সমর্থকদের মধ্যে ভোটের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে।
র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোটের কর্মীরা ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র হবে, এবং শাফিকুরের এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।



