অস্থায়ী সরকার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে যে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগ শাসনকালে দায়ের করা ২৩,৮৬৫টি মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় পাঁচ লক্ষ নাগরিকের ওপর চাপ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলাগুলো মূলত বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি, হেফাজত-ই-ইসলাম এবং গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হেরফেরের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রত্যাহার প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য সরকার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে ডেপুটি কমিশনাররা রয়েছেন। একই সঙ্গে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়িক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে আইন উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভী নিযুক্ত হয়েছেন।
আন্তঃমন্ত্রণালয়িক কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানায়, যাতে তারা পূর্ব সরকার দ্বারা দায়ের করা, যা তারা ‘হেরফেরের মামলা’ বলে বিবেচনা করে, সেসবের প্রত্যাহার চাওয়া যায়। এই আবেদনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য কমিটি মোট ৩৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত করেছে।
প্রতিটি বৈঠকে জমা দেওয়া আবেদনপত্রের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর প্রকৃতি, দায়েরের সময়সীমা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আইনগত দিক এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
বৈঠকের ফলস্বরূপ, কমিটি ২৩,৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। তবে রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবেদন পর্যালোচনা এবং অতিরিক্ত মামলাগুলোর প্রত্যাহার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তাই ভবিষ্যতে আরও কিছু মামলা প্রত্যাহার হতে পারে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি সহ অন্যান্য দলগুলো এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হেরফেরের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা দাবি করে যে, এই মামলাগুলো তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং নাগরিক স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করেছে।
অস্থায়ী সরকারের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক ‘রাজনৈতিক শীতলতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, তবে তারা কোনো মতামত প্রকাশ না করে কেবলমাত্র ঘটনার তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সরকার দাবি করে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থার ন্যায়বিচার পুনর্স্থাপন হবে।
প্রত্যাহারকৃত মামলাগুলো যদি সত্যিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ হয়, তবে প্রভাবিত ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময়ের কারাবাস ও আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আইনি কৌশল পরিবর্তন হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক অনুমান করছেন যে, সরকার এখনো রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর আইনি চাপ কমাতে চাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও সমতল করতে পারে।
প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের রেকর্ড আপডেট করবে এবং জনসাধারণকে তথ্য সরবরাহ করবে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের আইনি পরিসরে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যেখানে রাজনৈতিক ভিত্তিক মামলাগুলোকে কমিয়ে ন্যায়বিচারকে দ্রুততর করা হবে। তবে বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে।



