দেড় বছর রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর, ৩২ বছর বয়সী জুলাইযোদ্ধা আশরাফুল রবিবার সকাল ৮টা ৩ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (NINS) হাসপাতালে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর‑১০ এলাকায় আহত হন।
NINS-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আশরাফুলকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয় এবং তিনি ১৪ মাসের বেশি সময় আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
থাইল্যান্ডে দীর্ঘ সময়ের intensive care শেষে, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ফিরে আসার পরেও তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল না হয়ে, শেষ পর্যন্ত রোগের সঙ্গে লড়াই করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আশরাফুলের পরিবার তার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে এবং আত্মার শান্তি কামনা করে। পরিবারের পাশাপাশি, তার সহযোদ্ধা ও সমর্থকগণও গভীর শোক প্রকাশ করে, যা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে, হাসপাতালের কর্মীরা আশরাফুলের দীর্ঘ চিকিৎসা যাত্রা এবং তার ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্তব্য করেন।
আশরাফুলের গুলিবিদ্ধ হওয়া সময়টি ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের শীর্ষে, যখন মিরপুর‑১০ এলাকায় বিশাল প্রতিবাদ ও ধ্বংসযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল। এই সংঘর্ষে বহু তরুণ সক্রিয় সদস্য আহত ও নিহত হয়।
আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগের পর, আশরাফুলের মতো বহু তরুণকে গুরুতর আঘাতের শিকার হতে দেখা গিয়েছে। তার মৃত্যু এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকে আবারও উন্মোচিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এমন ঘটনা সরকারকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। যদিও সরাসরি কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আশরাফুলের ত্যাগের ফলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও প্রতিবাদকারীদের সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।
অধিকন্তু, আশরাফুলের পরিবার ও সমর্থকগণ সরকারকে তার মৃত্যুর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি দেশের মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
দীর্ঘ ১৮ মাসের রোগের পর তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার ত্যাগের স্মৃতি এবং তার পরিবারের শোকের প্রকাশনা দেশের তরুণ সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে সংহতির বার্তা বহন করে।
এই ঘটনার পর, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশরাফুলের মৃত্যু সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



