পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (PPPA) প্রধান আশিক চৌধুরী আজ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, যুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী DP World‑এর সঙ্গে নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) নিয়ে আলোচ্য কনসেশন চুক্তি অস্থায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বাক্ষরিত হবে না।
আশিকের মতে, DP World আজ একটি চিঠি পাঠিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ আইনগত পর্যালোচনার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা প্রস্তাবিত চুক্তিপত্রের খসড়া পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে এবং তৎক্ষণাৎ কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।
এদিকে, সরকারী ক্যাবিনেটের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য মাত্র দুই কর্মদিবস বাকি রয়েছে। আশিক উল্লেখ করেন, এই সীমিত সময়সীমায় ক্যাবিনেটের অনুমোদন সম্পন্ন করা এবং চুক্তি স্বাক্ষর করা বাস্তবিকভাবে কঠিন হবে।
PPPA স্বীকার করেছে যে তার ভূমিকা মূলত প্রক্রিয়ার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করা, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির শর্তাবলী ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকার সম্পূর্ণভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে।
সাম্প্রতিক সময়ে ১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আশিক তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করে, এটিকে ‘রুমর’ বলে উল্লেখ করে এবং কোনো চুক্তি ত্বরান্বিত করার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আশিক দেশের বন্দর কার্যকারিতার সামগ্রিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে, জানিয়ে দেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ব বন্দর র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩৯ নম্বরে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে। তিনি বলেন, গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে উন্নতি না করা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা থাকবে।
পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে অবকাঠামো আধুনিকায়ন না করলে দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা সীমিত থাকবে, এ কথায় তিনি জোর দেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শিপিং লাইন এবং বড় মাপের লগিস্টিক কোম্পানিগুলি উচ্চমানের টার্মিনাল ও সেবা ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না।
বক্তব্যের পর, আশিক উল্লেখ করেন যে বর্তমান আলোচনায় উভয় পক্ষই চুক্তির শর্তাবলী পুনরায় পর্যালোচনা করছে এবং ভবিষ্যতে অস্থায়ী সরকার শেষ হওয়ার পর নতুন সময়সূচি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি শেষ করে বলেন, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।



