অস্থায়ী সরকার ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারী নোট ভেরালে জাতিসংঘের মানবাধিকার উচ্চকমিশনারের (OHCHR) সহায়তা চেয়ে শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধটি বিদেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রস্তুত করা হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে OHCHR-কে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানায়। নোটে তদন্তকে “ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত” করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বৈদেশিক মন্ত্রণালয় নোটটি পাঠানোর পর, জেনেভা ভিত্তিক বাংলাদেশ মিশন দ্রুত বিষয়টি অনুসরণ করে এবং OHCHR থেকে কোনো উত্তর পাওয়া মাত্রই মন্ত্রণালয়কে জানাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিশনের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অস্থায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম ৬ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছেন যে, সরকার এই মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে এবং তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্তের গতি ও নিরপেক্ষতা বাড়বে।
ইনকিলাব মঞ্চের সক্রিয় সদস্যরা বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন জামুনার কাছাকাছি সিট-ইন পরিচালনা করে শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার উপর জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানায়। তারা দাবি করে যে, জাতীয় স্তরে স্বতন্ত্র তদন্তের সম্ভাবনা সীমিত এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
শ্রীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি জুলাই বিদ্রোহের সময়সীমার অন্যতম মুখ্য কর্মী ছিলেন, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলি হয়ে নিহত হন। তিনি ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গুলির পরপরই তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
হত্যার পরপরই ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানা-তে শ্রীফ ওসমান বিন হাদির বিরুদ্ধে ‘প্রয়াসে হত্যা’ অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি পরে ‘হত্যা’ হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। এই পরিবর্তনটি মামলার গুরুতরতা ও শিকারীর রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার উচ্চকমিশনারের অফিস (OHCHR) জেনেভা ভিত্তিক প্রধান সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করে। এই সংস্থা চুক্তি সংস্থাগুলোর সমর্থন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষেত্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার তদন্তে OHCHR-এর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে। আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে তদন্তের স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধানে একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠী উভয়ই এই পদক্ষেপকে দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে।
পরবর্তী ধাপে, OHCHR থেকে প্রাপ্ত সহায়তা ও প্রযুক্তিগত নির্দেশনা অনুসারে তদন্ত দলকে দ্রুত কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



