অন্তর্বর্তী সরকার রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর গঠিত দুইটি কমিটির সমন্বয়ে ২৩,৮৬৫টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ নাগরিকের ওপর আরোপিত আইনি চাপ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ২২ সেপ্টেম্বর দুটি কমিটি গঠন করে, একটি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা স্তরের কমিটি এবং অন্যটি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয়িক কমিটি।
কমিটিগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে, যাতে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোর তালিকা জমা দেয়। জমা পাওয়া আবেদনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয়িক কমিটি মোট ৩৯টি সভা পরিচালনা করে। এই সভাগুলোতে মামলাগুলোর ভিত্তি, প্রমাণ এবং আইনি দিক বিশ্লেষণ করে, অবশেষে ২৩,৮৬৫টি মামলার প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।
কমিটিগুলোর কাজ এখনো চলমান অবস্থায় রয়েছে। জেলা স্তরের কমিটি প্রতিটি জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় স্তরে আবেদনগুলো যাচাই করে, আর আন্তমন্ত্রণালয়িক কমিটি জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও তদারকি করে। উভয় কমিটি একসাথে কাজ করে, যাতে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট অযৌক্তিক মামলাগুলো দ্রুত শেষ হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি, হেফাজতে ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ইতিমধ্যে তাদের বিরোধী মামলাগুলোর তালিকা জমা দিয়েছে। এই দলগুলো প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে কমিটিগুলোকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকার উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট মামলাগুলো বিচার ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে, যা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সুপারিশকৃত প্রত্যাহার বাস্তবায়িত হয়, তবে আগামী নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। মামলাগুলো হ্রাস পেলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী প্রচারণায় বেশি মনোযোগ দিতে হবে, আইনি চাপে নয়। তবে কিছু দল এখনও কিছু মামলাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, তাই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা ও সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী সপ্তাহে কমিটিগুলোর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি আপডেট প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এই আপডেটের মাধ্যমে কতগুলো মামলা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার হবে এবং কতজন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হবে তা জানানো হবে। সরকার জোর দিয়েছে, সব প্রস্তাবিত মামলার ওপর ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও নাগরিকের অধিকার উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে হয়রানিমূলক মামলাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সফল হয়, তবে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আইনি সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কমিটি গঠন ও মামলা পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হলে, রাজনৈতিক বিরোধের আইনি দিকটি আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে।



