বাংলাদেশ সরকার আগামীকাল মার্কিন সরকার ও বয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২৫টি নতুন বিমান ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ কোটি টাকার মধ্যে নির্ধারিত। সিভিল এভিয়েশন ও ট্যুরিজম উপদেষ্টা স্ক বশির উদ্দিন এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
বয়িং প্রাথমিকভাবে ৪৭টি বিমান সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে সরকার বর্তমান সময়ে ২৫টি বিমান ক্রয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং অবিলম্বে চাহিদা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় লেনদেনের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
ইন্টারিম সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করার মূল উদ্দেশ্য হল আসন্ন নির্বাচিত সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না আরোপ করা। এভাবে নতুন সরকারকে বিমান বহরের সম্প্রসারণে স্বচ্ছন্দে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। উপদেষ্টা বশির উদ্দিন উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি দেশের এয়ারলাইন শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চুক্তির শর্তাবলী ও বিশদ তথ্য স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে শর্তাবলী গোপন রাখা হয়েছে, তবে স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষই তা জনসাধারণের কাছে জানাবে। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বচ্ছতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সময়ে, বাংলাদেশ মার্কিন সরকার সঙ্গে শুল্ক হ্রাসের আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পূর্বে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপিত পণ্যের ওপর এখন ২০ শতাংশে হ্রাস করা হয়েছে। এই হ্রাসটি সরাসরি রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বিশেষ করে প্রস্তুত পোশাক (রেডি-মেড গার্মেন্ট) পণ্য রপ্তানি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আইটেম, এবং শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য এই আলোচনার মূল অংশ। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ধরণের নীতি পরিবর্তন দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যকে শক্তিশালী করবে।
বশির উদ্দিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার চুক্তির বিবরণ আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী আলোচনায় কিছু জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি এই তথ্য গোপন রাখা হতো, তবে শুল্কের হার আরও কমে যেত। এই মন্তব্যটি শুল্ক আলোচনার কৌশলগত দিককে তুলে ধরে।
মোটের ওপর, ২৫টি বয়িং বিমান ক্রয় এবং শুল্ক হ্রাসের সমন্বয় দেশের এয়ারলাইন অবকাঠামো ও রপ্তানি বাজার উভয়ের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। নতুন বিমানগুলো দেশের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে সহায়তা করবে, আর শুল্ক হ্রাস রপ্তানি শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। ভবিষ্যতে এই দুই উদ্যোগের সমন্বয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



