জামালপুর জেলার সারিশাবাড়ি (জামালপুর-৪) নির্বাচনী এলাকা আজ বিকেলে একত্রিত হয়ে ছয়জন প্রার্থী ভোটারদের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে ঐক্যবদ্ধ কাজের অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। বিএনপি থেকে ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম, জামায়াত-এ-ইসলামি থেকে অ্যাডভোকেট আবদুল আওয়াল, ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা আলী আকবর, সিপিবি থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব জমান জুয়েল, নাগরিক ঐক্য থেকে কবির হাসান এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে ইকবাল হাসান একত্রে সারিশাবাড়ি উপজেলা ডাকবাড়িতে সমাবেশ করেন।
সমাবেশে প্রার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাত তুলেন এবং ভোটারদের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার শপথ নেন। শপথে বলা হয়, নির্বাচিত হোন বা না হোন, ছয়জনের মধ্যে যেকোনো একজন নির্বাচিত হলে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের জন্য এক পরিবার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করবেন, দুর্নীতি ও অপরাধ নির্মূল করবেন এবং শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ সারিশাবাড়ি গড়ে তুলবেন।
প্রার্থীরা জোর দিয়ে বললেন, ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটের ফলাফলকে সম্মান করে তারা পার্টি-সীমা অতিক্রম করে একত্রে কাজ করবে। এ ধরনের ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে।
এই উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হয়েছে। সমাবেশের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বাসিন্দারা প্রার্থীদের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে, এটি বিষয়ভিত্তিক ও সহযোগী রাজনীতির একটি আশাপ্রদ সূচনা বলে মন্তব্য করেন।
প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ইচ্ছা স্পষ্ট, যদিও তাদের রাজনৈতিক পার্থক্য এখনও বিদ্যমান। তবে শপথে উল্লেখিত লক্ষ্যগুলো—দুর্নীতি দূর করা, অপরাধ হ্রাস, নিরাপদ পরিবেশ গঠন—সবার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা একমত হন।
প্রতিটি প্রার্থী নিজ নিজ পার্টির নীতি ও আদর্শ বজায় রেখে, তবে ভোটারদের চাহিদা মেটাতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ধরনের সমন্বয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা শেষে স্থানীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারে।
সারিশাবাড়ি উপজেলার ডাকবাড়ি, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু, এইবারও রাজনৈতিক ঐক্যের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপস্থিত জনগণ শপথে অংশগ্রহণের পর একে অপরকে হাততালি দিয়ে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত কাজের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকগণও এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, নির্বাচনের পর যদি প্রার্থীরা সত্যিই একসঙ্গে কাজ করেন তবে কৃষি, বাজার ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, শপথের পরপরই তারা পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করবেন, যেখানে প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কাজের ক্ষেত্র নির্ধারিত হবে। এই কমিটি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার পূর্বে কিছু নির্বাচনী এলাকায় দেখা গিয়েছে, তবে জামালপুর-৪-এ ছয়জন প্রধান পার্টির প্রার্থী একসঙ্গে শপথ নেওয়া একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে স্থানীয় রাজনীতিতে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।
অবশেষে, প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানিয়ে, নির্বাচনের দিন সৎভাবে ভোট দিতে এবং শপথে উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সমর্থন করতে অনুরোধ করেন। তারা জোর দেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে সারিশাবাড়ি উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে।



