বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় গার্মেন্টস খাতের শুল্ক শূন্য করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে শুল্কের পরিমাণ কতটা কমবে তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে গার্মেন্টস পণ্যের জন্য শুল্ক শূন্য করার প্রচেষ্টা চালু রয়েছে।
উল্লেখিত চুক্তি শুধুমাত্র গার্মেন্টস শুল্ক শূন্য করার ওপর কেন্দ্রীভূত, সমগ্র শুল্ক কাঠামো হ্রাসের ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই আলোচনায় মূল পণ্যের রপ্তানি সুবিধা বাড়াতে চায়, যাতে রপ্তানি মূল্যের প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমে।
গত বছর ২ এপ্রিল মার্কিন সরকার বাংলাদেশ পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশের উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, পরে তা ৩৫ শতাংশে হ্রাস করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে, একই বছরের ৩১ জুলাই শুল্ক আবার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা মূলত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই হ্রাসের জন্য বাংলাদেশকে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে হয়।
মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা) বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের রপ্তানি আমদানি তুলনায় বেশি, তবুও এই ঘাটতি কমাতে শুল্ক হ্রাসকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক শুল্ক নীতি গৃহীত হলে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
গার্মেন্টস শুল্ক শূন্য হলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন খরচে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্যাক্টরি গুলোকে আর্থিক চাপ কমে, নতুন অর্ডার গ্রহণে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, শুল্ক শূন্যের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, শুল্ক শূন্যের চূড়ান্ত চুক্তি না হলে গার্মেন্টস খাতের রপ্তানি মার্জিন সংকুচিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল অস্থিরতা এবং মুদ্রা পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে। তাই, বাণিজ্য আলোচনার ফলাফল গার্মেন্টস শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখযোগ্য যে, গার্মেন্টস শুল্ক শূন্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার অন্যান্য পণ্যের জন্যও শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। শুল্ক কাঠামোর সামগ্রিক পুনর্বিবেচনা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় গার্মেন্টস শুল্ক শূন্য করার লক্ষ্য স্পষ্ট, তবে সমগ্র শুল্ক হ্রাসের পরিমাণ এখনও অনির্ধারিত। এই আলোচনার ফলাফল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা, রপ্তানি আয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ সরকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাজারের সম্প্রসারণ এবং শিল্পের টেকসই বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।



