চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ১৮৩ রান ছয়‑পাঁচে আফগানিস্তানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ চেজ রেকর্ড গড়ে তুলেছে। আফগানিস্তান ১৮২/৬ স্কোরে শেষ করে, আর নিউজিল্যান্ডের টিম ক্যাপ্টেন টিম সিফার্টের ৬৫ রান (৪২ বল) এবং গ্লেন ফিলিপ্সের ৪২ রান (৪২ বল) নিয়ে ১৩ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে।
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ১ম ও ২য় ওভারে মুজিব উর রহমানের ধারাবাহিক দুই উইকেটের পর ফিন অ্যালেন (১ রান) এবং রাচিন রাভিন্দ্রা (ডাক)কে আউট করে তাড়াতাড়ি চাপ সৃষ্টি করে। তবে ফিলিপ্সের দ্রুত শটের মাধ্যমে দলটি শীঘ্রই স্থিতিশীল হয় এবং তৃতীয় উইকেট পর্যন্ত ৭৪ রান partnership গড়ে তোলেন সিফার্টের সঙ্গে, যা আফগানিস্তানের স্পিন‑ভিত্তিক আক্রমণকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয়।
রাশিদ খান, যিনি আফগানিস্তানের প্রধান স্পিনার, ফিলিপ্সকে আউট করে দলের গতি আবার বাড়িয়ে দেন, তবে সিফার্টের ওপর নিজের বোলিংয়ে একটি ড্রপের পর তিনি ৪৮ রান পর্যন্ত পৌঁছান এবং পরের বলেই শিকড়ে ছয়ের মাধ্যমে অর্ধশতক পূরণ করেন। সিফার্টের শিকড়ে ছয়ের পরপরই তিনি মোহাম্মদ নাবির ওপর আরেকটি ছয় এবং একটি চার মারেন, যা শেষ পর্যন্ত তার ৬৫ রানকে নিশ্চিত করে।
আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে গুলবাদিন নায়েব তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন, যা দলকে ৪৪/২ থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করে। লকি ফারগুসনের প্রথম ওভারে দুইটি দ্রুত উইকেটের মাধ্যমে ইব্রাহিম জাদ্রান (১০ রান) এবং গুরবাজ (২৭ রান)কে আউট করে শুরুর দিকে চাপ বাড়িয়ে দেন। নায়েবের সঙ্গে সেদিকুল্লাহ আতাল (২৯ রান) তৃতীয় উইকেট পর্যন্ত ৭৯ রান partnership গড়ে তোলেন, তবে শেষের দিকে রাশিদ খান ফিলিপ্সকে আউট করে দলকে আবার চাপের মধ্যে নিয়ে আসেন।
নিউজিল্যান্ডের শেষ পর্যায়ে মার্ক চ্যাপম্যান ১৭ বলে ২৮ রান করেন, তবে তিনি দ্রুত আউট হন। ড্যারিল মিচেল (২৫ রান) এবং ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টনার (১৭ রান) ধারাবাহিকভাবে রান যোগিয়ে দলকে ১৮৩/৫ স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করেন, ফলে পাঁচ উইকেটের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত হয়। এই জয় নিউজিল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ চেজ রেকর্ড স্থাপন করে, যা পূর্বে ২০২১ সালের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬৭ রান চেজ ছিল।
ম্যাচের সমাপ্তিতে উভয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করা হয়, বিশেষ করে সিফার্টের দ্রুত স্কোরিং এবং নায়েবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে উল্লেখ করা হয়। নিউজিল্যান্ডের কোচ টিমের সামগ্রিক শৃঙ্খলা এবং শেষ ওভেতে চাপ সামলানোর ক্ষমতাকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। আফগানিস্তানও তাদের স্পিনার মুজিবের প্রারম্ভিক সফলতা এবং নায়েবের উচ্চ স্কোরকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ ম্যাচে উন্নতি করার আশা প্রকাশ করে।
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হবে এবং পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচে তাদের শীর্ষস্থান বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে।



