আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মানহানি, যিনি দাবি করেন যে কাসেমী ও তার সহকর্মীরা তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভ্রান্ত ও অপমানজনক তথ্য প্রচার করেছেন, তা আদালতে উপস্থাপন করেন।
মামলাটি রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে দাখিল করা হয়। দায়েরকারী হিসেবে নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকমের সাংবাদিক মো. আকাশ উপস্থিত ছিলেন এবং মামলার আবেদনপত্র আদালতে জমা দেন। আদালত মানহানির জবানবন্দি গ্রহণ করে, অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
কাসেমীর আইনজীবী এনামুল হক শিশির আদালতে জানান, আদালত অভিযোগ গ্রহণের পর সিআইডিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছে এবং মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে অতিরিক্ত অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা কাসেমীর সঙ্গে সমন্বয় করে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে গুজব ও মানহানিকর পোস্ট তৈরি করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাসেমী ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তরা ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম’ এবং ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডিজিটাল’ ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপ্রীতিকর, বিব্রতকর এবং মানহানিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে এক কোটি টাকা ক্ষতি ঘটিয়েছেন। এই ক্ষতির পরিমাণ আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা ভিত্তি করে মানহানির দাবি সমর্থিত হয়েছে।
সিআইডি তদন্তের পরবর্তী ধাপের জন্য আদালত নির্ধারিত তারিখে শুনানি নির্ধারণ করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালত অতিরিক্ত শাস্তি বা রায় প্রদান করতে পারে। বর্তমানে মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে।
এই মামলাটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জন্য প্রার্থী হিসেবে কাসেমীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন এধরনের আইনি পদক্ষেপ প্রার্থীর সুনাম ও ভোটারদের ধারণা প্রভাবিত করতে পারে।
অধিকন্তু, সংবাদমাধ্যমের স্বতন্ত্রতা ও তথ্যের সত্যতা সংক্রান্ত প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। যদি সিআইডি প্রমাণ করে যে কাসেমী ও তার সহকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে মানহানি করেছেন, তবে তা প্রকাশ্য মিডিয়ার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হতে পারে। অন্যদিকে, যদি তদন্তে দেখা যায় যে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, তবে তা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে আদালতে এই মামলার অগ্রগতি নজরে থাকবে। উভয় পক্ষই তাদের আইনগত অধিকার রক্ষা করতে প্রস্তুত, এবং সিআইডি তদন্তের ফলাফলই মামলার চূড়ান্ত দিক নির্ধারণ করবে। মামলাটি শেষ পর্যন্ত কী রকম রায়ে পৌঁছাবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রাজনৈতিক ও মিডিয়া ক্ষেত্রের জন্য এর প্রভাব স্পষ্ট।
এই প্রসঙ্গে, নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে নিশ্চিত করা যে সকল প্রার্থী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখবেন এবং ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাবে। একই সঙ্গে, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হবে তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করা, যাতে মানহানিকর বা ভ্রান্ত তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায়।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও সিআইডি তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই আপডেট প্রদান করা হবে।



