ঢাকা‑১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাড্ডার ডিআইটি প্রকল্পের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় দেশের উন্নয়নকে বাধা দেয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাড্ডা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার, যদিও শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি, তবে এখানকার বাসিন্দারা প্রায়শই নিজেদেরকে ঢাকার অংশ নয় বলে অনুভব করেন।
নাহিদের মতে, জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত গণ-অভ্যুত্থান বাড্ডাকে রামপুরা করে তুলেছিল; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত প্রতিবাদে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই সময়ে ঢাকা‑১১ আসনের বহু নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন এবং এলাকার মানুষ ২৮ বছর ধরে এই আন্দোলনের শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন করেছে।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, এখন সেই ঋণ শোধ করার সময়। তিনি জনগণকে আশ্বাস দেন যে, যদি সুযোগ দেওয়া হয় তবে বাকি জীবনে এই ঋণ পরিশোধে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। নাহিদ উল্লেখ করেন, বাড্ডার উন্নয়ন না হওয়ার মূল কারণ রাজনৈতিক স্বার্থে ভূমি দখল। তিনি বলেন, শত শত পরিবার তাদের জমি, খাস জমি ও সাধারণ জলাশয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে; যারা রাজনীতির ময়দানে ছিলেন তারা ভূমিদস্যু হিসেবে কাজ করেছে অথবা এমন দস্যুদের সমর্থন করেছে।
নাহিদের মতে, ৫ আগস্টের আগে প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্থানীয় নেতারা গত ত্রিশ বছর ধরে ভূমি ভাগ‑বাটোয়ারা করে এই অঞ্চলকে শোষণ করেছে। যদিও তারা রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখিয়েও ব্যবসায়িক স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং জনগণের ক্ষতি স্বীকার করেছে। তিনি আরও জানান, তিনি নিজে বিদেশে পনেরো বছর কাটিয়েছেন; তবে মালয়েশিয়া থেকে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নামে জমি দখল করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন, এবং পূর্বে দখলদার চাঁদাবাজি করতেন এমন ব্যক্তি তার স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি এসে তার অফিস ও গাড়ি দখল করেছে, যা তিনি জনগণের বিরুদ্ধে হাতবদল হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে, দুই প্রধান দলের স্থানীয় নেতারা নাহিদের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেন। তারা দাবি করেন, বাড্ডার অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে এবং ভূমি দখল সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া, তারা বলেছে যে, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন এলাকার সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যা নাহিদের অভিযোগকে অযৌক্তিক করে তুলছে।
এই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। নাহিদের অভিযোগগুলো নির্বাচনী সময়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে এবং জাতীয় নাগরিক দলের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান দুই দলের নেতারা যদি এই অভিযোগগুলোকে যথাযথভাবে মোকাবেলা না করেন, তবে বাড্ডা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, আসন্ন নির্বাচনে বাড্ডার মতো উপশহরীয় এলাকায় ভূমি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভোটার আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদি জাতীয় নাগরিক দল নাহিদের দাবিগুলোকে কার্যকরভাবে তুলে ধরে, তবে তারা ভোটারদের মধ্যে নতুন আস্থা গড়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান দুই দলকে যদি এই অভিযোগগুলোকে উপেক্ষা করে বা যথাযথ সমাধান না করে, তবে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভোটার ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নাহিদের শেষ বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি এখনো বাড্ডার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন এবং যে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের বদলে জনগণের মঙ্গলের জন্য ভূমি সমস্যার সমাধান করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের অবহেলা আর না ঘটে এবং এলাকার উন্নয়ন প্রকৃতভাবে জনগণের হাতে ফিরে আসে।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় উন্নয়ন, ভূমি দখল ও রাজনৈতিক স্বার্থের টানাপোড়েন দেশের উপশহরীয় এলাকায় ভোটারদের মনোভাবকে গঠন করছে। আগামী নির্বাচনে এই বিষয়গুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



