ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার তেহরানের একটি সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, ইরানকে যেকোনো চাপের মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে না। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন যে, ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কাজ এবং সমৃদ্ধকরণের জন্য বহু মূল্য দিতে হয়েছে এবং কোনো বাহ্যিক হুমকি তার স্বায়ত্তশাসনকে প্রভাবিত করতে পারে না।
আরাগচি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক নীতির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও, ইরান তার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, তাই আমরা সমৃদ্ধকরণে কোনো ছাড় দেব না।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজের উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে জানান, “এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের মোতায়েন আমাদের ভীত করে না।”
আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আরাগচির ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পরোক্ষ বৈঠক। শুক্রবারের ওই সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দিনের পর আরাগচি তেহরানে এই ঘোষণাটি দেন, যা ইরানের পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকিগুলি পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্বে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার দাবি করে, এবং যদি ইরান চুক্তি না করে তবে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই হুমকির অংশ হিসেবে, মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও রয়েছে, ইরানের নিকটবর্তী জলে মোতায়েন করা হয়েছিল।
ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণও উল্লেখযোগ্য। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী জাহাজগুলো ইরানের পারমাণবিক সুবিধা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। ট্রাম্প তখন দাবি করেন যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে, তবে পরবর্তীতে তিনি পুনরায় চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ঘটনাগুলি ইরান-ইউএস সম্পর্কের জটিলতা এবং পারমাণবিক বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কঠিনতা তুলে ধরে।
ইরানের এই নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক ইরানের দৃঢ়তাকে পারমাণবিক চুক্তি পুনরায় আলোচনার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইরানের সমৃদ্ধকরণকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো বাহ্যিক চাপই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ইচ্ছাকে পরিবর্তন করবে না। একই সঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক হুমকি অব্যাহত থাকলে, দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সুযোগ কমে যেতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক নীতি, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রাখছেন। উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট, তবে সমঝোতার পথ এখনও দীর্ঘ এবং জটিল।



