মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ডে অংশগ্রহণের আবেদনকে ইতালি সরকার শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা ও বোর্ডের চুক্তির মধ্যে অমিল রয়েছে, ফলে ইতালি এই সংস্থায় সদস্য হতে পারে না। তবুও তায়ানি উল্লেখ করেছেন, ইতালি শান্তি উদ্যোগের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য দরজা খোলা রাখবে।
তায়ানি আল জাজিরার সঙ্গে কথোপকথনে ব্যাখ্যা করেন, ইতালির সংবিধানের ধারা ১১ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে। বোর্ড অব পিসের চুক্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে, যা ইতালির দৃষ্টিতে সমতার শর্ত পূরণ করে না। এই কাঠামোই রোমের সরকারকে বাধ্য করেছে, কারণ তারা সমতা ও সমান মর্যাদার নীতি লঙ্ঘিত বলে মনে করে।
ইতালির এই সিদ্ধান্তের পর ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যও একই বোর্ডে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। এই তিন ইউরোপীয় দেশ ইতিমধ্যে কাতারে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশগ্রহণের সময় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর প্রতি সংশয় প্রকাশ করেছে। তায়ানি উল্লেখ করেন, ইতালির অবস্থান অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মতই, যা সংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও সমতার নীতির প্রতি অগ্রাধিকার দেয়।
বোর্ড অব পিসের চুক্তিতে প্রতিটি স্থায়ী সদস্য দেশকে এক বিলিয়ন ডলার অবদান দিতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক শর্তকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘পে-টু-প্লে’ সংস্করণ হিসেবে সমালোচনা করা হচ্ছে, কারণ এটি ধনী দেশগুলোকে প্রাধান্য দেয় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণকে কঠিন করে তোলে। তদুপরি, জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; গাজার যুদ্ধের পরপরই বোর্ডকে অস্থায়ী শাসন কাঠামো হিসেবে অনুমোদন করা হলেও, পরবর্তীতে গাজার কোনো উল্লেখ না রেখে চুক্তি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত শান্তি বোর্ডের প্রথম সভা ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই সভার ঠিক আগের দিন ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একত্রে বৈঠক করবেন, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ আকর্ষণ করবে। ইতালির প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও, বোর্ডের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত কাঠামোর কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলবে।
সংবিধানিক বাধা, আর্থিক শর্ত এবং সমতার প্রশ্নগুলোই ইতালির সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও ইতালি সরাসরি সদস্য না হলেও, ভবিষ্যতে সংবিধানিক সংশোধন বা চুক্তির পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই ধরনের বাধা ও শর্তগুলো শান্তি উদ্যোগের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার এই পর্যায়ে, ইতালির মত দেশগুলোর সংবিধানিক নীতি ও আর্থিক সক্ষমতা কীভাবে সামঞ্জস্য করা যায়, তা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।



